সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে সাক্ষাৎকার। কিন্তু, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য একটু বেশি প্রস্তুতি নিতে হয়; খবরের বিষয় এবং সূত্রগুলো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সবকিছু জানতে আগেই খোঁজ-খবর করে নিতে হয়। তাহলেই কেবল আপনি যুৎসই প্রশ্নগুলো করতে পারবেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হতে পারে স্পর্শকাতর, তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে এবং তাতে কারো সুনামও নষ্ট হতে পারে। আবার, এগুলোর সবই একযোগে হতে পারে। এ কারণেই সাক্ষাৎকারের দক্ষতা শানিয়ে নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আপনি ছক করে নিতে পারেন কী ধরনের প্রশ্ন করবেন এবং কোন প্রশ্ন আগে ও কোন প্রশ্ন পরে করবেন। তাছাড়া, সাক্ষাৎকার গ্রহণের সময় কিছু নৈতিক বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সাক্ষাৎকারের জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নেবেন?
যোগাযোগ স্থাপনের অন্য সব কাজের মতোই সাক্ষাৎকারও একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। সাক্ষাৎকারের ফলাফল কেমন হবে, তা সাক্ষাৎকারদাতার ওপরে যতটা নির্ভর করে, ঠিক ততটাই নির্ভর করে আপনার ওপর। ভালো সাক্ষাৎকারে একটি আলাপচারিতার আবেশ থাকে। একই সাথে এটি আপনার কাক্সিক্ষত উত্তরগুলো বের করে আনার একটি পরিকল্পিত কৌশলেরও অংশ।
সাক্ষাৎকার নেয়ার আগে, আপনাকে খবরের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে হবে এবং তার সঙ্গে সূত্রের যোগসূত্র বুঝে নিতে হবে। এটি করার জন্য আপনাকে সেসব লেখা ও নথিপত্র ঘেঁটে দেখতে হবে, যেখানে আপনার অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপট ও পূর্ব-পরম্পরা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। বিপরীতে, এটি আপনাকে উপযুক্ত প্রশ্নমালা তৈরি ও সেগুলোর বিশদ ব্যাখ্যা পেতে আপনাকে সাহায্য করবে। বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনা করুন। তা না হলে, আপনি গুটিকয়েক মানুষ বা সূত্রের ওপরে নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন, যারা হয়তো ঘটনা বা ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরের চরিত্র। একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আপনি এমন কোনো স্থানে গেলেন যেখানে খামারকর্মী, শিল্পশ্রমিক বা এ জাতীয় পেশার লোকজন কাজ করেন। সেখানে সহজেই দেখতে পাবেন, কর্মীরা নিয়োগদাতার হাতে কতটা ভুক্তভোগী। কিন্তু আপনি যখন কোনো বড় শহরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) কার্যালয়ে যাবেন, তখন এটা সাধারণ চোখে ধরা পড়বে না। তাই আপনি সরেজমিনে যা দেখছেন, আর কাগজে কলমে লেখা নীতিমালা বা বাজেটে ওই বিষয়ে যা পাচ্ছেন, তার মধ্যে তুলনা করুন ও মিল-অমিল যাচাই করুন। অন্যান্য জায়গা বা বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের ঘটনায় যা ঘটেছে, তার সঙ্গে আপনার অনুসন্ধানের তুলনা করে নিন। অগ্রিম এই প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে আপনি প্রাসঙ্গিক সব প্রশ্ন করতে সক্ষম হবেন এবং আপনার প্রতিবেদনের জন্য দরকারী তথ্যগুলো বের করে আনতে পারবেন।
মানুষকে দিয়ে কথা বলিয়ে নেয়া
আপনার প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে, যার বলার মতো কাহিনী আছে, এরকম ব্যাক্তির অফিসে আপনি হঠাৎ করে ঢুকে গিয়ে (যদিও মানুষ অনেক সময় এটাকে ভালোভাবে নেয় না) অথবা ফোন করে সাক্ষাৎকার নিতে পারেন। আপনি হয়তো এমন একটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন, যার সঙ্গে দেখা করার পথে বারবার বাধা আসছে। এমন হলে, আপনি সেই ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারেন। তাঁর অফিসের বিশ্রাম কক্ষ বা লবি, অথবা উন্মুক্ত কোনো অনুষ্ঠান যেখানে সেই ব্যক্তির উপস্থিত হওয়ার কথা আছে – সেসব জায়গায় গিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে পারেন। অবশ্য, এই কৌশলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। একটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ: এমন কোনো আচরণ করবেন না, যাতে মনে হয় আপনি তাদের জন্য ওঁৎ পেতে আছেন। আপনাকে অত্যন্ত ভদ্রতার সঙ্গে নিজের পরিচয় দিতে হবে। জানাতে হবে যে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনি খুশি হবেন। সন্দেহ তৈরির আশঙ্কা থাকলে আপনি একজন মধ্যস্থতাকারীর কথা ভাবতে পারেন। ওই ব্যক্তির চেনা-জানা গন্ডির মধ্যে সেই মধ্যস্থতাকারী হবেন একজন ‘দ্বার-উন্মোচক’। কোনো কোম্পানি, সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সহযোগী কোনো প্রতিষ্ঠানের কারও সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে আপনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রেস অফিসের মাধ্যমে অনুরোধ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রেই আপনাকে নম্র আচরণ করতে হবে।
একটা কৌশল কাজে দিতে পারে। কাউকে ফোন করা বা সরাসরি সাক্ষাৎ করার আগে খুবই সংক্ষিপ্ত একটা মহড়া করে নিন। তাতে থাকবে আপনার সাক্ষাৎকারের প্রধান প্রধান পয়েন্ট সংবলিত একটা সূচনা বক্তব্য। এই পর্যায়ে আপনাকে একটা বিষয় ভাবতে হবে। সেটা হচ্ছে, সাক্ষাৎকারদাতার কাছে আপনি কখন প্রকাশ করবেন যে আপনি একজন সাংবাদিক। কোন পরিস্থিতিতে আপনি আপনার পেশাগত পরিচয় গোপন করে অন্য কোনো পরিচয় দেবেন (যেমন, বিক্রয় প্রতিনিধি)? কীভাবে আপনি সেই ‘ভূমিকা’কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবেন?
আপনি হয়তো কারো সঙ্গে প্রথমবারের মত অনানুষ্ঠানিকভাবে দেখা করলেন, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যতেও কথা বলতে হতে পারে। তাই, তাঁকে কীভাবে একটা সূত্রে পরিণত করা যাবে, সেই চিন্তা নিয়ে কাজ করুন। পরিকল্পনার ছক এঁেক নিন। আলাপে যেসব ইস্যু আসতে পারে, তা ঠিক করে নিন। সেই ব্যক্তির আগ্রহের বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন। তাঁর কর্মস্থলে যেসব ইস্যু আছে, সেগুলো সম্পর্কে তাঁকে আলোচনা করতে কীভাবে উৎসাহিত করা যাবে? একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আপনার নিজেকে উপস্থাপনা যেমন হবে, তার চেয়ে পানশালার একজন কর্মীর সঙ্গে আচরণ কী আলাদা হবে? হলে সেটা কীভাবে? যেসব ব্যক্তি দৃশ্যত রুটিন কাজ করেন, কখনোই তাঁদের বুদ্ধিমত্তাকে খাটো করে দেখবেন না! এর জন্যে কতটা সময় লাগতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট ও বাস্তববাদী হোন। সরকারের একজন মন্ত্রীর ক্ষেত্রে ১৫ মিনিট হবে খুবই লম্বা সময়। কিন্তু, মানসিক আঘাত পেয়েছেন, এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে খোলামেলা উত্তর পেতে হয়তো পুরো একটা দিনই লেগে যেতে পারে।
কোনো সূত্র আপনাকে আগেভাগেই প্রশ্নমালা পাঠাতে বললে, আপনাকে হয়তো তাই করতে হবে। কিন্তু সাধারণত একে ভালো চর্চা বলে মনে করা হয় না। সাক্ষাৎকারের বিষয়বস্তুর ওপর একটা মোটামুটি রূপরেখা পাঠালে হয় কি না, সেই চেষ্টাও করে দেখতে পারেন। বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তি ছাড়া অন্যদের কাছে আগেভাগে প্রশ্নমালা পাঠালে তা একটা বাগাড়ম্বরপূর্ণ, কৃত্রিম সাক্ষাৎকারে পরিণত হতে পারে। কখনো কখনো তথ্য জোগাড় করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সময় দরকার হয়। তাই জানিয়ে রাখুন, ফলো-আপের জন্য তার কাছে আবারও আসতে হতে পারে।
আবার এমনও হতে পারে, কোনো সূত্র আপনার সঙ্গে দেখা-ই করতে চান না, শুধু একটা লিখিত বিবৃতি দিতে চান। এ ক্ষেত্রে আপনাকে সম্পাদকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং প্রতিবেদনে তা ব্যবহারের উপযুক্ত উপায় কী হবে, তা ঠিক করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আদর্শ ব্যাখ্যাটি হবে এরকম: ‘আমরা সাক্ষাৎকারের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকেই পাওয়া যায়নি। অবশ্য, আমাদের কাছে ফ্যাক্সের মাধ্যমে একটা বিবৃতি পাঠানো হয়েছে।’ এরপর বিবৃতিটি পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে হবে।
কোনো সূত্র কথা বলতে রাজি হলে, আপনার প্রথম কাজ হবে উপযুক্ত জায়গা বাছাই করা। নিজ বাড়ি বা অফিসে সাক্ষাৎকারদাতা কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। নিজের এলাকা বলেই, তিনি একটু সহজ হতে পারেন। তবে তা আপনাকেও তাঁর প্রেক্ষাপট দেখার সুযোগ দেবে। আপনার অফিস আপনাকে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেবে, কিন্তু অচেনা মানুষজনের মধ্যে তিনি নিজেকে অনিরাপদ ভাবতে পারেন। সাক্ষাৎকারের ধরন সম্পর্কে চিন্তা করে নিন। প্রকাশ্য নাকি গোপন – ভেবে নিন কোন ধরনের জায়গায় কথা বললে বেশি সফলতা আসবে। পারিপার্শ্বিক শব্দদূষণের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে, যা হয়তো কথোপকথন রেকর্ডে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে, ফোনকল, ইমেইল বা ফ্যাক্সের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে নিন, যাতে সাক্ষাৎকারদাতা বলতে না পারেন যে তিনি ‘ভুলেই গিয়েছিলেন’। ব্যক্তিগত সহকারি কবে সেই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করবেন – তার জন্য অপেক্ষা করবেন না। সাড়া দেওয়ার একটি যৌক্তিক সময় বেঁধে দিন। পরে আবার ফোন করুন। অটল থাকুন। তবে তা যেন উপদ্রব না হয়ে যায়।
আগেই ঠিক করুন কোন কোন প্রশ্ন করবেন
আপনার সাক্ষাৎকারের কাঠামো এমনভাবে সাজিয়ে নিন, যাতে সেটা যদি সফল নাও হয়, তবু আপনি যেন এমন কিছু তথ্য উদ্ধার করতে পাবেন যা আপনার কাজে লাগবে।
- ১. ওয়ার্ম আপ (পরস্পরের মধ্যে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করা)
- ২. মৌলিক তথ্য, যাতে অন্তর্ভূক্ত থাকবে জানা বিষয়গুলো নিশ্চিত করা
- ৩. ‘নমনীয়’ প্রশ্নমালা
- ৪. ‘শক্ত’ প্রশ্নমালা
খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সোর্সকে কথা বলায় সাচ্ছন্দ্য করতে কতটা সময় লাগবে, সে বিষয়ে একটা আন্দাজ করে নিন। তবে, সাক্ষাৎকারের প্রাথমিক ধাপগুলো , সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মেনে সৌজন্য প্রদর্শনসাপেক্ষে, সংক্ষিপ্ত ও হালকা রাখার চেষ্টা করুন। এরপর যত দ্রুত সম্ভব মূল বিষয়ে প্রবেশের চেষ্টা করুন। আপনার সাক্ষাৎকারে একটা যৌক্তিক কাঠামো নিশ্চিত করুন। প্রথমে সেসব প্রশ্ন করুন যাতে আপনার দরকারি তথ্যগুলো বেরিয়ে আসে। তুলনামূলক চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নগুলো পরে করুন। আপনার প্রশ্নগুলো অবশ্যই সহজে বোধগম্য, পরিস্কার ও যথাযথ হতে হবে। একটা দীর্ঘ ও জটিল এলোমেলো প্রশ্নের চেয়ে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ছোট ছোট কয়েকটি প্রশ্ন অনেক ভালো। কারণ, দীর্ঘ প্রশ্নে আপনার সূত্রটি খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন। এসব প্রশ্ন আগেভাগেই আপনার মাথায় সাজিয়ে নিন।
কিছু পরামর্শ:
- > একই প্রশ্নে অনেক উত্তর চাওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলুন: ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন, আপনি কী এই প্রক্রিয়ার তত্বাবধানে ছিলেন এবং কেন তেমনটি করলেন এবং চুক্তিটি করলেন?’ এমন প্রশ্ন করলে আপনার সূত্রটি শুধু প্রশ্নের সেই অংশটিরই উত্তর দেবেন, যেটি তিনি আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।
- > দ্বৈত নেতিবাচক প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন। কারণ এমন বিষয় অযাচিত সংশয় সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, ‘এটা কী সত্য নয় যে আপনি ওই্ অর্থ ফেরত দেননি?’ এমন প্রশ্নে সেই অর্থ সম্পর্কে দুটি উত্তরের একটা আসতে পারে। অথবা সেই বিবৃতির কেবলই সত্যতা সম্পর্কে উত্তর আসতে পারে। ‘এটা কী সত্য যে আপনি ওই্ অর্থ ফেরত দেননি?’ এটা হবে অধিকতর সহজ ও স্পষ্ট; ‘আপনি কী ওই্ অর্থ ফেরত দিয়েছেন?’ এটা হবে আরও ভালো প্রশ্ন।
- > যেগুলো শুধু নিশ্চিত করা প্রয়োজন তেমন প্রশ্নগুলো যুক্ত করুন। এগুলো এমন প্রশ্ন যার উত্তর আপনি জানেন। এটা মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। আর এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার সূত্র সঠিক তথ্য দিচ্ছে কিনা। সাক্ষাৎকারদাতা যদি প্রশ্নের সাদামাটা ভাব দেখে বিভ্রান্ত হন, তবুও আপনি কিছু মনে করবেন না। যদিও দরকার হয় না, তবু আপনি বিষয়টির ব্যাখ্যায় বলতে পারেন: ‘পাঠক এই উত্তরটি আপনার মুখ থেকে শুনতে চান, আমার মুখ থেকে নয়।’ বদ্ধ প্রশ্ন (অন্য ভাষায়, যার উত্তর আসে হ্যাঁ, না বা এমন এক শব্দে)-এর সঙ্গে ফারাকের বিষয়টি মাথায় রাখুন।
- > উন্মুক্ত প্রশ্ন করুন। এই প্রশ্নগুলোতে আপনার সোর্স তাদের ধারণা সম্পর্কে আরো খোলামেলা কথা বলতে আগ্রহী হবে। উন্মুক্ত প্রশ্নগুলো আপনার সামনে একটি ভাষ্য হাজির করে। অন্যদিকে বদ্ধ প্রশ্ন আপনার প্রতিবেদনের নির্ভুল তথ্য হাজির করে। এই দুইয়ের মিশেল ব্যবহার করুন।
সাক্ষাৎকারের সময় আচরণ
সাংবাদিকেরা প্রায়ই বাজে আচরণের জন্য সমালোচিত হন। বলা হয়ে থাকে – তাঁরা অতি উৎসাহী; অনেক সময় ঘটনার উত্তেজনায় ঘি ঢালেন, মানুষের সুনাম নষ্ট করেন; বিরোধীদের পক্ষে কাজ করেন; কঠোর উদ্যমী লোকজনের কাজে ব্যাঘাত ঘটান; অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতায় ঘাটতি থাকে; এ ধরনের অনেক অভিযোগ তাদের নামে। মাঝেমধ্যে, অভিযোগে সত্যতাও থাকে। এ ধরনের নেতিবাচক ধারণা কাটাতে শালীন ও নৈতিক আচরণ করতে হবে। আপনার কখনোই রূঢ় হওয়া চলবে না; এমন কিছু দাবি করবেন না, যা অযৌক্তিক। আপনি যদি এমন ভাব দেখাতে থাকেন যাতে মনে হয় সব তথ্যের ওপর শুধু আপনারই অধিকার; তাহলে সোর্স ও সমাজের অন্যান্য জায়গা থেকে আপনার প্রতি বৈরিতা বাড়বে।
বেশির ভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে তাঁরা ভালো ও সৎ। সুতরাং, সুত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে আপনি তাকেই কেন ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করবেন না? কয়েকটি উপায়ে প্রশ্ন সাজানো গেলে, তা প্রায়ই ভালো ফল বয়ে আনবে। যেমন, ‘এটা কীভাবে ঘটে, তা জানতে পারলে আমি সত্যিই খুশি হব’, অথবা ‘কমিউনিটির সুবিধার জন্যই দয়া করে এই বিষয়টা যদি ব্যাখ্যা করতেন’; এই ধরনের কথাবার্তায় প্রায়ই ইতিবাচক ফলাফল দেখা যায়। তথ্যটা যে জনস্বার্থে প্রকাশ হওয়া জরুরি, তা বোঝাতে পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তথ্যদাতারা সাংবাদিকদের সহযোগিতা করেন।
এটা শুধুই একটা কৌশলের বিষয় নয়; ‘রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ বলে একটা বাহারি তকমা আছে সাংবাদিকদের, কিন্তু এটাও সত্য যে সরকারি কর্মকর্তা বা জনসেবকদের কর্মকান্ড তদারকরি জন্য কোনো সাংবাদিকই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন না। সাংবাদিকেরা হচ্ছেন নাগরিক সমাজের অংশ। সেই বিবেচনায় রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কল্যাণে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করার নাগরিক দায় তাঁরা পালন করেন। এই অবস্থায়, সাংবাদিকদের রয়েছে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের মতো গণযোগাযোগের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশাধিকারের সুবিধা। সাংবাদিকেরা অনেক সময় বৈরি প্রতিষ্ঠান বা দূর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য গোপন রেকর্ডার ব্যবহারের মতো পদ্ধতির সাহায্য নেন, যাতে এমনকি আইন লঙ্ঘনও হতে পারে। সেকারণেই সন্তোষজনক, আন্তরিকতাপূর্ণ ও স্বচ্ছ (অন্তত যতটা সম্ভব স্বচ্ছ) পদ্ধতি ব্যবহার সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনি যেন আপনার দায়িত্বের সীমা লংঘন না করে ফেলেন, সে জন্য সব সময় এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করবেন: যাকে নিয়ে অনুসন্ধান করছি, সেই ব্যক্তি আমি হলে বিষয়টাকে কীভাবে দেখতাম? আমি সাংবাদিকদের ভূমিকাকে কীভাবে দেখি? আমার নিজের জবাবদিহিতা কতটা? আমি যে অন্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছি, এমন প্রলোভন থাকলে আমি কী আত্মসমর্পণ করতাম? কী আমাকে নিবৃত্ত করতো? আমার জবাবদিহি (‘চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্স’) কোথায়?
সাক্ষাৎকারের মৌলিক নীতিমালা
সময়মতো পৌঁছানো
আপনি দেরিতে পৌঁছালে সূত্রের সঙ্গে আপনার দূরত্ব তৈরি হবে। আপনার নিজের সময় নষ্ট হবে, ক্ষমা চাওয়ার জন্য সময় ব্যয় হবে এবং সাক্ষাৎকারের শুরুতে হয়তো আপনার দম থাকবে না; হাঁপাতে হাঁপাতে মূল বিষয়ে মনোযোগ রাখা সম্ভব হবে না।
উপযুক্ত পোশাক পরিধান করুন
পোশাক পরিধানের নিয়মনীতি এখানে যথেষ্ট শিথিল হলেও প্রথম দর্শনেই আপনার সম্পর্কে সূত্রের একটা খারাপ ধারণা হোক, তা নিশ্চয়ই আপনি চাইবেন না। প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে পোশাক পরতে পারেন। উপযুক্ত শ্রদ্ধা দেখাবেন। পোশাকে আপনার জীবনাচারণ বা মতাদর্শ সম্পর্কে যেন কোনো বার্তা না থাকে।
কোথায় বসবেন, ঠিক করুন
আপনার এমন একটা স্থানে বসা দরকার, যেখান থেকে চোখাচোখি ভালো হবে এবং সেরকম জায়গা বেছে নিতে প্রয়োজনে আপনার রেকর্ডিং ডিভাইসকে একটা অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন (যেমন, এটা এই স্থানে রাখলে অধিকতর ভালোভাবে রেকর্ড হবে…)। আবার, একেবারে মুখোমুখি বসলে দুজন দ্বন্দ্বে লিপ্ত, এমন মনে হতে পারে। বরং আপনি সমান্তরালে, বিপরীত স্থানে বসুন। কিন্তু কিছুটা কৌণিক করে বসবেন। দুজনের মাঝে যেন কোনো বস্তু না থাকে, সেটা নিশ্চিত করুন। যেমন, বইয়ের স্তপ, একটা খোলা ল্যাপটপ ইত্যাদি। নরম সোফায় বসলে লেখার কাজটা কঠিন হয় এবং আরামে গাঁ এলিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
উপযুক্ত চোখাচোখি বজায় রাখুন
সামনে থাকা মানুষটার মুখের অভিব্যক্তি দেখতে পেলে সবসময় আলাপচারিতা ভালো হয়। আপনি যদি নোট নিতে থাকেন, তাহলে কিছুটা সমস্যা হতে পারে, কিন্তু, মাঝেমধ্যেই তাঁর দিকে তাকানোর চেষ্টা করুন। আর যখন প্রশ্ন করবেন তখন অবশ্যই তাকাবেন। আপনি কখনোই প্রশ্নমালা টানা দেখে পড়বেন না। সেটা হলে আপনার সূত্র সন্দেহ করবেন, আপনি সাক্ষাৎকার গ্রহণে অত্যন্ত কাঁচা, আপনি আত্মবিশ্বাসী নন অথবা আপনার সূত্র যা বলছেন তাতে আপনি প্রকৃতপক্ষে মনোযোগ দিচ্ছেন না। এটাকে আপনার রূঢ় আচরণের আলামত হিসেবেও নেওয়া হতে পারে এবং সূত্র কথা বলায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।
শারিরীক অভিব্যক্তির ব্যাপারে সতর্ক থাকুন
রক্ষণাত্মক অঙ্গভঙ্গি ও চালচলন সংকেত দিতে পারে কৌশলে এড়ানোর চেষ্টাকে। এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন কোথায় আপনার প্রশ্নটা আরও কঠিনভাবে করা দরকার। আপনার সূত্র কখন আঘাত পাচ্ছেন, কখন স্বস্তিবোধ করছেন, কখন রসিকতায় মজছেন, কখন রাগান্বিত হচ্ছেন বা বিরক্তিতে পড়ছেন এসব বিষয়েও খেয়াল রাখুন।
অন বা অফ দ্য রেকর্ড
‘অন দ্য রেকর্ড’ মানে আপনার সূত্র আপনাকে যা যা বলেছেন, তার সবই আপনি ব্যবহার করতে পারেন। ‘অফ দ্য রেকর্ড’ মানে আপনি এই তথ্য কেবল ব্যবহার করতে পারবেন, সেসব উপায়ে যেখানে সূত্রের পরিচয় অপ্রকাশিত থাকবে। আর ‘ব্যাকগ্রাউন্ড ওনলি’ মানে আদৌ এই তথ্য ব্যবহার করবেন না। এটা কেবলই আপনি যাতে প্রেক্ষাপটটা বুঝতে পারেন, সেই জন্য বলা। এই ‘অন দ্য রেকর্ড’ বা ‘অফ দ্য রেকর্ড’ মানার ক্ষেত্রে কোনো আইগত বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু এটা সাংবাদিক ও সূত্রের মধ্যে একটা সাধারণ সৌজন্যতা।
এই সাক্ষাৎকার ‘অন দ্য রেকর্ড’ বা ‘অফ দ্য রেকর্ড’ তা সূত্রের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে নিন। সংবেদনশীল বিষয়ের ওপরে প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে সজ্ঞান সম্মতি নিশ্চিত করুন। সাক্ষাৎকারটা যদি অনানুষ্ঠানিক হয়, তাহলে আপনার নোটবুক ও রেকর্ডার বের করে, ‘বলুন আমি যদি এই কথোপকথন রেকর্ড করি বা নোট গ্রহণ করি, তাতে তাঁর কোনো আপত্তি আছে কিনা?’ সাক্ষাৎকারটা যদি আনুষ্ঠানিক হয়, দ্রুত কাজটা সেরে নিন এবং আপনার সময়টার উপযুক্ত ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন, নোট নেওয়া বা রেকর্ড করার কথা শুনলে কোনো কোনো সূত্র ভয় পেতে পারেন। রেকর্ডিংয়ের ডিভাইস লুকিয়ে রাখবেন না। জ্ঞাতসারে লিখুন বা রেকর্ড করুন। সূত্র যদি স্নায়ুবিক চাপ অনুভব করেন, অথবা আপনাকে এটা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে ব্যাখ্যা করে বলুন যে এটা কিভাবে আপনার উত্তরগুলো সঠিকভাবে লিখতে সাহায্য করবে।
সব সময়ই নোট নিন
নোট নিলে মূল বিষয়ের ওপরে মনোযোগ নিবদ্ধ থাকবে। এর ফলে অঙ্গভঙ্গি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও অভিব্যক্তি নথিভূক্ত রাখতে আপনাকে সাহায্য করবে, যা হয়তো আপনার রেকর্ডারে ধারণ করা সম্ভব না। রেকর্ডিংয়ে কোনো সমস্যা হলে এটা একটা ব্যাক আপ হিসেবে থাকবে। সঠিকভাবে নোট নিন, যাতে উদ্ধৃতি, আপনার পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মধ্যে যেন স্পষ্ট পার্থক্য টানা যায়।
নিরপেক্ষ, উন্মুক্ত প্রশ্ন করুন
মনোবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে একটা পরামর্শ নিন। এমন প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন, যার উত্তরে আপনার অনুভূতি কী হবে, আগেই তার ধারণা পাওয়া যাবে। এমন প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন: ‘এটা কী নিতান্তই ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা নয়? ’। এর পরিবর্তে প্রশ্ন করুন: ‘ক্ষমতার এমন ব্যবহারের বিষয়ে আপনার মতামত কী?’ আপনি হয়তো আপনার সূত্রের উদ্দেশ্য বুঝতে চাইছেন। কিন্তু সরাসরি ‘কেন’ এমন শব্দ ব্যবহার করবেন না। কারণ, এটা হয়তো অভিযোগ তোলা বা অবিশ্বাস বলে মনে হতে পারে। সুতরাং ‘কেন’ প্রশ্নটা পরোক্ষভাবে করুন। ‘গণমাধ্যমের এই খবর আপনাকে কেন ক্ষুব্ধ করল’ না বলে বলুন, ‘আপনি বললেন যে গণমাধ্যমের এই খবর আপনাকে ক্ষুব্ধ করেছে। এ বিষয়ে আমাকে আরও কিছু বলুন’।
নীরবতা খারাপ কিছু নয়
আপনার সূত্রকে প্রশ্নের উত্তর বলতে দিন। পরবর্তী প্রশ্নে যাওয়ার আগে কিছুটা বিরতি দিন। আলাপচারিতায় আপনি শূন্যস্থান পূরণ করতে যাবেন না। যদি সাক্ষাৎকারদাতা একটা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে চিন্তার জন্য সময় নিতে চান, নিতে দিন; আবেগপূর্ণ অবস্থা থেকে বের হতে সময় নিতে চাইলে আপনি অপেক্ষা করুন। পরে শুরু করুন এই প্রশ্ন দিয়ে: “আমরা কী এখন সামনে এগোতে পারি?”
চেহারায় আগ্রহ ফুটিয়ে তুলন, আগ্রহী হোন
সাক্ষাৎকারের সময় আপনি যা শুনছেন, তার সাথে অব্যাহত মিথস্ক্রিয়ায় থাকতে হবে। উত্তর যা পাচ্ছেন লিখে ফেলুন এবং সেখান থেকে বাড়তি প্রশ্ন বের করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন: আমি যে উত্তর চাই, এটা কি সেটা? আমি কী এটা বুঝেছি? অমি এটাকে কীভাবে ব্যবহার করব? একবার সাক্ষাৎকার নেওয়া শেষ হয়ে গেলে দ্বিতীয়বারের জন্য সেখানে ফিরে যাওয়া খুবই কঠিন। আপনি যথেষ্ট গবেষণা করে প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার পর দেখলেন নানাভাবে চেষ্টা করেও আপনি যা প্রত্যাশা করে আছেন আপনার সূত্র তা বলছেন না। উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। বিষয়টি ছেড়ে দিন। অথবা বিষয়বস্তু বদলে নিন। নতুন বিষয়ের দিকে এগিয়ে যান। নতুন প্রেক্ষাপটের ওপরে সাড়া দিন এবং ফলো-আপ জেনে নিন। আগে থেকে তৈরি হওয়া ধারণানির্ভর বিবরণ বা স্টোরির মধ্যে সূত্রকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং, আপনি অপ্রত্যাশিতভাবে যা পেলেন তা অধিকতর ভালো স্টোরির দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদি সেটা না হয়, তাহলে আপনি পরবর্তীতে আপনার আসল বিষয়বস্তুর দিকে ফিরে যেতে পারবেন। আপনার সূত্রের সঙ্গে আগ্রাসী মনোভাব দেখাবেন না। সাক্ষাৎকারটা যদি আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক পথে না এগোয়, তবুও না। এমনকি সাক্ষাৎকারদাতা রূঢ় আচরণ করলেও নয়।
সময়কে শ্রদ্ধা দেখান
ঘড়ির কাটার দিকে চোখ রাখুন। প্রশ্নের গতি ঠিক রাখুন। প্রতিশ্রুত সময়ের শেষ প্রান্তে পৌঁছে গেলে বলুন, “আরও কয়েকটি প্রশ্নের জন্য আমাদের কী সময় হবে?”
সাক্ষাৎকারের ইতি টানার সময় এরপরে কী ঘটবে সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারদাতাকে নিশ্চিত করুন। বলতে পারেন, “এই খবরটা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হবে।” তবে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন না যা আপনি রাখতে পারবেন না। যেমন, খবরটা প্রকাশের আগেই তাঁকে দেখার সুযোগ করে দেবেন, এমন প্রতিশ্রুতি।
খবর যা, তা-ই বলুন
ভালো সাংবাদিকেরা সূত্র থেকে পাওয়া উপাদানগুলোকে সততার সঙ্গে ব্যবহার করবেন। স্পষ্টতই, সাক্ষাৎকারের সময় যা বলা হয়েছে, সে সম্পর্কে আপনার মিথ্যাচার করা উচিত হবে না। সাক্ষাৎকারের পর কোনো প্রশ্নের বা তার জবাবের অর্থ আপনি উল্টে দিতে পারেন না। কোনো উদ্ধৃতিকে প্রেক্ষাপটের বাইরে নিতে পারবেন না। আসল সাক্ষাৎকারে যে ধারাক্রমে উত্তরগুলো এসেছিল, সেখান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকুন। আনাড়িভাবে দুটো বিষয় পাশাপাশি স্থাপনের সময় সত্যটাকে দূর্ঘটনাবশত বিকৃত করে ফেলা খুবই সহজ। আপনার স্টোরিটা বলুন। এরপর স্টোরিটা যাদের বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরুন। পাঠক-শ্রোতা-দর্শকেরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান; সত্যটা কোথায় আছে, তা ঠিকই তাঁরা ধরে ফেলবেন।
|
১১ জানুয়ারী, ২০২৬