রবিবার , ১১ জানুয়ারী ২০২৬
studentnewsbd
৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

অনুসন্ধানী সাংবাদিক যেভাবে পাবেন ভেতরের খবর

যেভাবে পাবেন ভেতরের খবর

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় সম্পদগুলোর একটি, ব্যাক্তি-সূত্র বা মানুষ। যদি কেউ তথ্যদাতা ব্যক্তির সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে তিনি সবার আগে বড় কোনো খবর পেয়ে যেতে পারেন। এই অধ্যায়ে এ ধরনের সম্পর্ক কীভাবে গড়ে তোলা যায় এবং তথ্যদাতার বিশ্বাস কীভাবে অর্জন করা যায়, যাতে তাঁরা তথ্য দিতে রাজি হন, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার একটি অংশ হচ্ছে কোনো বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং প্রতারকের মধ্যে পার্থক্য করতে পারা। অপর অংশটি হচ্ছে তদবিরকারী ও কোনো বিষয় বা ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে উৎসুক মুখপাত্রকে চিনতে পারা, যাঁরা নিজেদের উদ্দেশ্য সাধনে সাংবাদিকদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন।

কীভাবে ভালো সোর্স বা তথ্যদাতা চিহ্নিত করা যায়?


একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের জন্য সোর্স খুঁজে বের করা, তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়া এবং তা ধরে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নির্ভরযোগ্য ও স্পষ্ট সোর্স হন তাঁরাই, যাঁরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, সরাসরি জড়িত অথবা কোনো না কোনোভাবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। আপনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এমন লোকজনের নামের তালিকা থেকে প্রত্যক্ষদর্শী খুঁজে নিতে পারেন, এবং আপনি নিজে যদি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন, তাহলে সেখানে থাকা অন্য মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন। যে যেমন দাবিই করুন না কেন, সব কিছুই যাচাই করে নিতে হবে। যদি দেখা যায়, কেউ সত্যি কথা বলেছে; তাহলে তার বক্তব্যটি আপনার অনুসন্ধানের জন্য অনেক নির্ভরযোগ্য সূত্র হয়ে উঠবে। এটিও ভুলে যাবেন না যে, আপনি যদি এমন কিছু নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন, যার অভিজ্ঞতা আপনার নিজেরও আছে; তাহলে আপনি নিজেও একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শী। প্রতিটা প্রতিবেদন আপনার নেটওয়ার্ক বাড়াবে। এটি রিপোর্টিং করতে করতে আপনাআপনিই তা হয়ে যায়। কিন্তু আপনি যদি আবাসন স্বল্পতা বা সমাজের সর্বোচ্চ স্তরে স্বজনপ্রীতির মতো নির্দিষ্ট কোনো প্রজেক্ট বা বিষয় নিয়ে কাজ করেন, তাহলে আপনাকে খুবই প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের একটি নেটওয়ার্ক সতর্কভাবে গড়ে তুলতে হবে। সহকর্মী সাংবাদিকদের উপেক্ষা করবেন না; তাঁদের ব্যাক্তিগত যোগাযোগ অনেক সময় মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। অবশ্যই সেটি নির্ভর করবে আপনার কর্মস্থল বা প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রতিযোগিতার ওপরে। আপনি বিস্তারিত বলবেন কিনা, তা নিয়ে সতর্ক হতে পারেন। আপনার প্রতিবেদনের বিষয়বস্তুর সঙ্গে খোলাখুলিভাবে সম্পর্কযুক্ত এমন লোকজনেরও খোঁজ করতে পারেন। স্পোর্টস ক্লাব, ধর্মীয় সংগঠন বা দাতব্য সংস্থার মতো সংগঠনের কথা বিবেচনা করতে পারেন। মনে রাখতে হবে, কারো সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার কারণে কিছু সাক্ষাৎকারদাতা হয়তো সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ অভিমত বা দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতে পারেন। আপনার অনুসন্ধানে এই বিষয়টি মাথায় রাখুন। অভীষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে অতীতে যাঁদের সম্পর্ক ছিল, তাদের সন্ধান করুন। যেমন : সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার, সাবেক স্বামী বা স্ত্রী, সাবেক কর্মী, চিকিৎসক, শিক্ষক, অথবা সাবেক পুলিশ বা সেনা কর্মকর্তা। যে ব্যক্তির ব্যাপারে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, তার সঙ্গে দ্বন্দ্ব আছে বা ছিল কিংবা মামলা রয়েছে, এমন লোকজনও খুবই গুরুত্বপূণ সোর্স হতে পারেন। তবে, মনে রাখতে হবে, তাঁদের আবেগ-অনুভূতি ও মনোভাবের কারণে তাদের তথ্যে অতিরঞ্জন বা রং চড়ানো হয়ে থাকতে পারে।

সোর্সের মূল্যায়ন


মানুষ নানা কারণে সাংবাদিকদের তথ্য দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে সাহায্য করা বা কোনো অনিয়ম উদঘাটনের মত মহৎ উদ্দেশ্য সেখানে থাকে না। আপনি যখন কোনো সোর্সের কাছে তথ্য চাইতে যাবেন, সেখানেও একই কথা প্রযোজ্য। ব্যক্তিগত ক্ষোভ, পরিস্থিতি বা বিশ্বাসের কারণে তাঁরা রং চড়িয়ে কথা বলতে পারেন, ফলে তাঁর দেয়া তথ্যে অতিরঞ্জন হতে পারে, কিংবা কোনো বিষয় তারা ইচ্ছা করেও চেপে যেতে পারেন। কোনো কোনো সোর্স হতে পারে অতি-উৎসাহী। (কি ঘটেছে তার বদলে) আপনি যা শুনতে পছন্দ করবেন, তারা সেটাই বলবেন। তাই সোর্সের অতীত সম্পর্কে একটু জেনে নিতে পারলে এমন অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে; কথা বলার সময় তারা কেমন আচরণ করছে, তা পর্যবেক্ষনও আপনাকে অনেক কিছু বুঝতে সাহায্য করবে।

মানুষ কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃত ভুল করে বসে, এবং ঘটনার বিস্তারিত ভুলে যায়। এই দুই কারণে সব তথ্য তৃতীয় একটি নিরপেক্ষ বা স্বাধীন সূত্র থেকে আপনার যাচাই করে নেওয়া উচিত। ভাষ্য হুবহু না মিললেও দুইটি ভিন্ন জায়গা থেকে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ একই দিকে নির্দেশ করার কথা। আপনি যদি দ্বিতীয় কোনো তথ্যদাতা খুঁজে না পান, অথবা যাচাই করার সময় হাতে না থাকে, তা-ও পাঠক-দর্শকদের জানানো উচিত। তাদের বলুন, কেন এই তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব ছিল না। কিন্তু মনে রাখুন: একটি প্রতিবেদনে অনেক বেশি অসমর্থিত তথ্য, দাবি আর অভিযোগ থাকলে তা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে আপনার অবস্থানও দুর্বল করে দেয়।

তবে, ধরা যাক, আপনার দ্বিতীয় তথ্যদাতা সাংঘর্ষিক তথ্য দিয়েছেন, তাহলে? এ ক্ষেত্রে পাঠককে উভয় তথ্যদাতার তথ্য জানাতে হবে, প্রতিবেদনের মধ্যে ঊভয় ভাষ্যকেই জায়গা দিতে হবে । যেমন: ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সশস্ত্র ব্যক্তিরা সীমান্তে অনুপ্রবেশ করেছে; তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সীমান্ত অতিক্রমকারীদের নিরস্ত্র বলে বর্ণনা করেছে।’ আপনি যে খবর দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাতে খাপ খায় না এমন তথ্য আপনি স্রেফ এড়িয়ে যেতে পারেন না। এই দ্বন্দ্বগুলো আপনার প্রতিবেদনে প্রাসঙ্গিক হলে, তা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে। সিমুর হার্শের মতো সফল ও বিস্তৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অধিকারী সাংবাদিকেরা কখনও কখনও একটি সূত্রের ভিত্তিতেও প্রতিবেদন করেছেন। তবে এমন সাংবাদিকের সংখ্যা খুবই কম।

আপনি যার সঙ্গেই কথা বলুন না কেন, একদম শুরুতেই তথ্যদাতা নিজের যে পরিচয় দি”্ছনে, তার যথার্থতা যাচাই করে নিন। নিজেদের কর্মস্থল, ঠিকানা, পরিবারের বিস্তারিত, সামরিকবাহিনীতে কাজ করে থাকলে তার রেকর্ড, পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স এগুলো কি তাঁরা দেখাতে পারবেন? কোনো তথ্যদাতার যদি অপরাধ, ব্যক্তিগত দুর্দশা, মানসিক অসুস্থতা, আর্থিক সমস্যা, সহিংসতা বা প্রতারণার অতীত ইতিহাস থাকে, তাহলে আপনাকে অবশ্যই তাঁর দেওয়া তথ্যের বিষয়ে সন্দিহান হতে হবে। কোনো তথ্যদাতা যদি এসব বিষয়ে জানাতে বা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তাহলে তার পেছনে জোরালো কোনো কারণ থাকাই স্বাভাবিক এবং এ ক্ষেত্রে আপনাকে বিচার করতে হবে যে তাঁর দেওয়া তথ্য আপনি বিশ্বাস করবেন কি না।

আপনি কীসের সন্ধান করছেন সেটা যদি নিশ্চিত হতে পারেন, কেবলমাত্র তখনই আপনি কী পেলেন তার গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারবেন। তথ্যদাতা কি পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা অথবা এক গুচ্ছ প্রমাণ হাজির করেছেন? আপনি কি এগুলো বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে সম্ভাব্য অন্য সবরকম ভাবে সাজালে ভিন্ন উপসংহারে পৌঁছান? তাহলে, ‘ফাঁকটা’ কোথায়? তথ্যদাতার অভিজ্ঞতা কি তাঁর জনগোষ্ঠী বা সমাজের প্রতিনিধিত্বমূলক? এটি কি হালনাগাদ, অথবা ঘটনাটি কি অনেক আগে ঘটেছিল যে পরিস্থিতি এখন বদলে যেতে পারে এবং ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ভুলভাবে স্মরণ করছেন?

বিশেষজ্ঞ


প্রায় সব বিষয়েই বিশেষজ্ঞ রয়েছে: ইতিহাসবিদ, বিজ্ঞান গবেষক, আইনবিদ, প্রকৌশলী এবং আরও অন্যান্য। বাণিজ্যিক বিষয়াদি (যেমন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম) নিয়ে কাজ করার সময় সঠিক বিশেষজ্ঞ চিহ্নিত করা বিশেষভাবে জরুরি। তিনি হতে পারেন এমন কেউ, যিনি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এ ধরনের বিশেষজ্ঞ আপনার অনুসন্ধানে বিশেষ সহায়ক হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ওই বিশেষজ্ঞ কীভাবে তাঁর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং যে বিষয়ে আপনি অনুসন্ধান শুরু করেছেন, তার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, তা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরাও আপনার সামনে হয়তো পরিপূর্ণ একটি চিত্র তুলে ধরতে সক্ষম। যেমন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মানবাধিকারকর্মীর মতই একজন আইনজীবী, একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একজন চিকিৎসক কিংবা একজন জিজ্ঞাসাবাদকারীও বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারেন।

তবে, সব বিশেষজ্ঞই একই মানের কিংবা একই রকম নির্ভরযোগ্য নন। কাজেই এ ক্ষেত্রে আপনার বিশ্বস্ত অন্য সাংবাদিকদের পরামর্শ নিন, তার কর্মকা- ও যোগ্যতা সম্পর্কে খোঁজখবর করুন। জানার চেষ্টা করুন, কাদের জন্য তারা গবেষণাটি করেছেন। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরাও তদবিরকারীদের মতো হতে পারেন। তাদের কাজের কারণে কী কী বিতর্ক বা সমালোচনা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করুন। এমনকি নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞের (অথবা বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদন) সম্পর্কেও প্রশ্ন করা প্রয়োজন। যদি বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ একমত না হতে পারেন, তাহলে ভিন্নমতগুলো একসঙ্গে উপস্থাপনের উপায় খুঁজে বের করতে হবে আপনাকে, যা থেকে পাঠক একটা ধারণা পেতে পারেন। আর যদি বিশেষজ্ঞদের মতামত একদিকেই যায়, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ আপনি গ্রহণ করতেই পারেন। তবে, এরপরও আপনি ভুল প্রমাণিত হতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা যখন সমানভাবে বিভক্ত, তখন তা পাঠকের কাছে ব্যাখ্যা করা আপনার দায়িত্ব। তবে আবারও বলছি, আপনাকে অবশ্যই এসব বিশেষজ্ঞদের কর্মকা- ও যোগ্যতা সম্পর্কে ভালোভাবে খোঁজখবর করতে হবে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়ে সংবাদমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে যাতে মনে হয় বিশেষজ্ঞরা সমানভাবে বিভক্ত। কিন্তু পরে যখন প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো, তখন জানা গেল যে অনেক ‘বিশেষজ্ঞই’ জ্বালানিখাতের মুখপাত্র হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিষয়টিকে নাকচ করে গেছেন । বাস্তবতা হলো, বহু বছর ধরে অনেক বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ মিলেছে যে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ঘটছে এবং তা বিপজ্জনক।

সরকারি বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদেরও খুব ভালোভাবে পর্যালোচনা করুন ও সন্দেহ নিয়ে দেখুন। অন্যান্য বিশেষজ্ঞের মতো সরকার নিয়োজিত বিশেষজ্ঞও ভুল বা সঠিক হতে পারেন। কখনো কখনো তারা সরকারের চাপে বিশেষভাবেও তথ্য উপস্থাপন করেন। বিশেষজ্ঞ নয়, এমন তথ্যদাতার দেওয়া তথ্য যেভাবে যাচাই করা হয়, এই বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্যও সেভাবে দ্বিতীয় সূত্রের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করে নিতে হবে। সরকারি দপ্তরের কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবেও জানতে চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে হয়তো প্রতিবেদনে সূত্র হিসেবে তার পরিচয় উল্লেখ করতে পারবেন না, কিন্তু আপনি অনেক তথ্য পেয়ে যেতে পারেন।

আমরা মনে করি, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শুধু লিখিত প্রতিবেদন ও নীতিমালার উৎস। কিন্তু, তারা যে দেশে তাদের সদর দপ্তর এবং যেসব দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, এমন সব জায়গায় দরকারি যোগাযোগের সূত্রও দিতে পারে। আপনাকে সহযোগিতা করতে তাঁরা বাধ্য নন। কিন্তু, যথাযথভাবে যোগাযোগ করতে পারলে, বিশেষত: অনুসন্ধানের বিষয়বস্তুর বিষয়ে তাদের যদি জোরালো আগ্রহ থাকে, তাহলে প্রায়শই এসব সংস্থা সহানুভূতি দেখায়। গবেষণার মাধ্যমে আপনি তাঁদের মন্তব্য ও তথ্যের পটভূমি পাবেন, কিন্তু ভারসাম্যের প্রয়োজনে আপনাকে অন্য কোনো উৎস থেকেও সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা ভাবতে হবে।

কখনো কখনো আপনি নিজের কাজের বিষয়বস্তু বা আপনার সুনির্দিষ্ট তথ্যের কথা জানিয়েও সূত্রের সন্ধান করতে পারেন। আপনি এ কাজ অনানুষ্ঠানিকভাবে, নেটওয়ার্কে থাকা সূত্রদের কাজে লাগাতে পারেন; কখনো কখনো অনুসন্ধানের বিষয়বস্তুর ওপর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অনেকেই হয়তো আপনাকে ইমেইলে বা টুইটের মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক তথ্য জানাতে পারে। অথবা আগে তথ্য দিতে রাজি হয়নি এমন সূত্র আপনার প্রতিবেদন ‘শুধরে’ দিতে আগ্রহী হতে পারে। ভালো-মন্দ; সব দিক বিবেচনা করেই আপনাকে কৌশল ঠিক করতে হবে। কারণ কখনো কখনো এমন পদ্ধতিতে আপনি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। আপনি যাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে চান, তারা সতর্ক হয়ে যেতে পারে এবং তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা লুকানোর চেষ্টা করতে পারে, তথ্যদাতাদের মুখ বন্ধ কিংবা আপনার বিরুদ্ধে আগাম কোনো পদক্ষেপ নিয়ে বসতে পারে!

প্রতিবেদনের জন্য বিশেষজ্ঞ খুঁজে না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি আর অগ্রসর হতে পারবেন না। আপনি ভুল হতে পারেন – অথবা আপনি হয়তো ভুল বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে থাকতে পারেন, কিংবা আপনার প্রশ্নটা ভুল হতে পারে। প্রতিবেদনে বিভিন্ন ধরণের মত থাকলে তাতে মুক্তমনেরই প্রকাশ ঘটবে এবং তা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অন্য বিশেষজ্ঞদের এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করতে পারে।

হুইসেলব্লোয়ার, গেটকিপার এবং ডোর-ওপেনার


কখনো কখনো আপনি হয়তো নথিপত্র পড়তে গিয়েই ‘তথ্য ফাঁসকারী’ বা হুইসেলব্লোয়ারের (অসন্তুষ্ট কর্মী, যিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তথ্য দিতে চান) সন্ধান পেয়ে যাবেন। উন্নত বিশ্বে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সরকারি দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক ইলেকট্রনিক বৈঠক ‘কক্ষ’ রয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও তথ্য আদানপ্রদান হয়। তবে এসব সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য সরাসরি আপনার প্রতিবেদনে ব্যবহার করবেন না। আপনাকে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে তথ্য ফাঁসকারীর অস্তিত্ব আছে বা তিনি সত্যিই কর্মরতদের একজন এবং তিনি তার দাবি প্রমাণ করতে পারবেন। তাঁর দেওয়া স্বাক্ষ্যপ্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত হতে সূত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার চেষ্টা করুন।

সবচেয়ে দরকারি সূত্র তারাই, যারা আপনাকে নৈতিকতার পরীক্ষায় ফেলবে না এবং আপনাকে ‘আত্মপরিচয় গোপন’ করে সেই প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনে ঢোকার ঝুঁকির মুখে ফেলবে না। প্রকৃতপক্ষে তথ্যেও গেটকিপার বা দ্বাররক্ষীরা হলেন: ব্যক্তিগত সহকারী, অভ্যর্থনা কক্ষের কর্মী এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা, যারা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আপনাকে ঢুকতে দেবেন অথবা সেখানে কাদের যাতায়াত, সে সম্পর্কে বলতে পারবেন। শুধু উচ্চপদস্থদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে ভুল করবেন না; সবার সঙ্গে ভালো পেশাদার সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করুন। দ্বাররক্ষীরা শুধু সশরীরে প্রবেশই নয়, তথ্যও নিয়ন্ত্রণ করেন। মনে রাখতে হবে ব্যাংক, ঋণদাতা অথবা সরকারি দপ্তরের কর্মীদের মতো দ্বাররক্ষীদের চাকরির চুক্তিপত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখার শর্তে স্বাক্ষর করতে হয় এবং তথ্য ফাঁস না করার বিষয়ে আইনগতভাবে তাঁরা বাধ্য। তুচ্ছ কারণে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করবেন না এবং তাঁদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক গোপন রাখুন, যাতে তাঁদের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি না হয়।

যে কোনো অনুসন্ধানে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটা হলো, ‘কার কাছে তথ্যটা আছে?’ প্রায় ক্ষেত্রেই তথ্য সুরক্ষায় একাধিক দ্বাররক্ষী থাকেন। চিন্তা করুন: যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আপনাকে নথি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে অন্য কোনো সরকারি সংস্থা বা সংগঠনের কাছে একই নথি থাকতে পারে। যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, কিম্বা স্বাস্থ্য বিষয়ক অন্য কোনো এনজিও, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গবেষণারত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, অথবা সংসদের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির কোনো সদস্যের কাছে নথিটি থাকতে পারে, যিনি আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল। আপনার সূত্রগুলোর মধ্যে যদি কোনো সার্ভেয়ার থাকেন, তিনি হয়তো কোনো স্পর্শকাতর তথ্য দিতে পারবেন না। তবে তিনি বলতে পারবেন, কে কী কাজ করেন, কার গুরুত্ব কত এবং কে সিদ্ধান্ত নেন।

তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার দিতে পারেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রভাবশালী। যদি তাঁরা আপনাকে পছন্দ করেন, বা আপনার কাজে তাঁদের বিশ্বাস থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে তাঁরা আপনাকে কথা বলিয়ে দিতে পারবেন। দরজা খুলে দেওয়া ব্যক্তি অর্থ্যাৎ, ডোর-ওপেনাররা হতে পারেন সম্মানিত বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ অথবা যথেষ্ট জ্যেষ্ঠ নন তবে বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো সংগঠন বা সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আছেন। কখনো কখনো কোনো জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিষ্ঠিত নেতাও তাঁর সম্প্রদায়ের কারো সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করতে পারেন। এসব ব্যক্তিরা যখন বলেন, অন্যরা তাঁদের কথা শোনেন: ‘এই সাংবাদিক ভালো; আপনারা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’ এসব ব্যক্তিকে তাঁদের ইতিহাস ঘেঁটে চিহ্নিত করুন এবং যখনই সুযোগ হয়, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

মুখপাত্র বা স্পিন ডক্টর্স


আমরা দাপ্তরিক মুখপাত্র ও তদবিরকারীদের ‘মুখপাত্র বা স্পিন ডক্টর্স’ বলে থাকি: তাঁরা তাঁদের নিয়োগকর্তার স্বার্থ হাসিলের জন্যই বেতন পান এবং নানা ঘটনায় সবচেয়ে ইতিবাচক ব্যাখ্যা দেন। তবে এসব মুখপাত্রকে চিহ্নিত করা সবসময় সহজ নয়। মন্ত্রীর তথ্য কর্মকর্তা অবশ্যই এমন একজন। কিন্তু সেই সব সাংবাদিকের ব্যাপারে কী বলবেন, যারা বিশেষ উদ্দেশ্য বা দলের প্রচার-প্র্রসারের জন্য গোপনে অর্থ পেয়ে থাকেন। সরকারি বা বাণিজ্যিক সূত্র বা কর্মকর্তাদের গোপন ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে কী বলা যাবে? অথবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ পাওয়া ‘বিশেষজ্ঞ’ যাঁরা কোনো বিশেষ পণ্যের প্রসারে কাজ করেন? এবং বেনামে কোনো অপরিচিত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন বা খবর? ছোট-বড় যে কোনো কারণে এসব মুখপাত্রকে ব্যবহারের হার দিনে দিনে বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, উপসাগরীয় যুদ্ধের বিষয়ে জনমত নিজের পক্ষে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছিল এবং ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী গর্বের সঙ্গে নিজেকে ‘তথ্য যোদ্ধা’ হিসাবে নিজের পরিচয় দিতেন।

তবে, ভুয়া খবর নিয়ে কাজ করার চেয়ে একজন স্বীকৃত মুখপাত্রের সঙ্গে কাজ করা অপেক্ষাকৃত সহজ। আপনি জানেন যে মন্ত্রীর মুখপাত্র সমস্যার ওপর রং চড়িয়ে অর্জনের ওপর আলোকপাত করার জন্যই বেতন পান। কেবল সবচেয়ে অদক্ষরাই মিথ্যা বলেন, কারণ সামান্য গবেষণা বা খোঁজ-খবরেই মিথ্যা ধরা পড়ে যায়। প্রাথমিক গবেষণায় গভীরতা এবং ভালো সাক্ষাৎকার কৌশলের মাধ্যমে ফাঁকি ও বিভ্রান্ত করার চেষ্টাগুলো ধরে ফেলা যায়। মনে রাখতে হবে, মুখপাত্ররা কেবল তাঁদের কাজটাই করছেন, যেমনটা আপনি করছেন।

সরকারি মুখপাত্রদের পাশাপাশি সরকার এবং কিছু বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কিছু গোয়েন্দা শাখাও থাকে, যারা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এবং কখনো কখনো নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে গোপনে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে সংবাদমাধ্যমে সাদ্দাম হোসেনের ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’-এর গল্প প্রকাশ করেছিল, পরে জানা যায় যা তাঁর কাছে ছিল না।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোয় সংবাদমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের জন্য আলাদা একটা বিভাগ থাকে , যাঁদের নিয়মিত কাজের একটি অংশ হলো গণমাধ্যমে ‘গল্প’ গেলানো। তারা প্রায়শ সাংবাদিক কী জানে, তা জানতে গোয়েন্দাগিরি করে, এমনকি তাদের নিয়োগ দেওয়ারও চেষ্টা করে। তবে কখনো কখনো তারা নিজেদের পছন্দের দিকগুলো পত্রিকায় প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের তথ্য দেয়, ফেল পাঠকদেরও তা-ই পড়তে হয়। কাজেই কেউ যখন গুরুত্বপূর্ণ অডিও রেকর্ড ও নথি দিয়ে ‘সাহায্য’ করতে আগ্রহী হন এবং তাঁদের আচরণ বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও খুবই সতর্ক হতে হবে।

১৯৮৮ সালে প্যারিসে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের প্রতিনিধি ডালসি সেপ্টেম্বরের খুনের ঘটনা অনুসন্ধান করেছেন ফোরাম ফর আফ্রিকান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টার্স নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা ইভলিন গ্রোয়েনিঙ্ক। এ ঘটনায় ফরাসি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজেদের ভূমিকা আড়াল করতে সংবাদপত্রে অনেক ভুয়া খবর ছাড়ে। তাতে দাবি করা হয়, বিদেশি ঘাতকেরা ডালসিকে হত্যা করেছে। গ্রোয়েনিঙ্ককে আশ্বাস পেয়েছিলেন, তাকে “এক ফরাসি অস্ত্র ব্যবসায়ীর কথাবার্তার ৩০০ ঘন্টার টেপরেকর্ড” দেয়া হবে। সেই অস্ত্র ব্যবসায়ীর কাছে প্রতারণার শিকার হওয়া এক ব্যক্তি এই আশ্বাস দিয়েছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে সংবাদমাধ্যমের কাছে ওই সূত্রের মুখ খুলতে চাওয়ার যৌক্তিক কারণ ছিল: প্রতারিত হওয়ার পর প্রতিশোধের আকাক্সক্ষা। কিন্তু গ্রোয়েনিঙ্ক যখন কথিত প্রতারণার শিকার ব্যাক্তির বিপুল অর্থ, সময়, নজরদারি করার সুযোগ, উড়োজাহাজের টিকিট ও যোগাযোগের নেটওয়ার্ক নিয়ে তাকে প্রশ্ন করতে থাকলেন, তখনই তিনি লন্ডনে আত্মগোপনে চলে যান। তিনি লন্ডনেরই বাসিন্দা ছিলেন। গ্রোয়েনিঙ্কের সন্দেহ – সূত্রটি আসলে যুক্তরাজ্য সরকার বা দেশটির অস্ত্র নির্মাণ শিল্পে কাজ করতেন।

মোটাদাগে নিয়ম হলো, সূত্র আপনাকে খুঁজে বের করার চেয়ে আপনি সূত্রকে খুঁজে বের করা ভালো। ধরা যাক, পরিচয় না জানিয়ে কেউ গোপনে দেখা করতে বলেছে আপনাকে। শর্ত দিয়েছে, তৃতীয় কাউকে সাক্ষাতের বিষয়ে কিছু বলা যাবে না, কারণ ‘শত্রুপক্ষ তাঁর পেছনে লেগে আছে’। এমন ক্ষেত্রে ওই সূত্র ‘শত্রুপক্ষেরই’ কেউ একজন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি! আপনি প্রায়ই এমন সব মানুষ পাবেন, যারা আপনার সঙ্গে কথা বলতে অনিচ্ছুক এবং শর্ত জুড়ে দেবে যে তারা যা-ই বলুক না কেন, তা অনানুষ্ঠানিক (অফ দ্য রেকর্ড) কিংবা তাঁদের নাম প্রকাশ করা চলবে না। এমন ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই যে কোনোভাবে ওই সূত্রের পরিচয় জানতে হবে। সূত্রের অতীত ইতিহাস যদি আপনার ভালো করে জানা না থাকে, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন না তারা কী ধরনের তথ্য দেওয়ার সামর্থ রাখে।

সূত্রকে রক্ষার উপায় কী?


অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কখনো কখনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, বিশেষ করে যেসব দেশে স্বৈরশাসন চলছে, আইনের শাসন দূর্বল এবং সাংবাদিকেরা গ্রেপ্তার বা হত্যাকান্ডের শিকার হতে পারেন। কাজেই কখনো কখনো গোপনে কাজ করাটা জরুরি। প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সূত্রকে সতর্ক করা আপনার দায়িত্ব। সেই সঙ্গে প্রতিবেদনটি প্রকাশ হলে সমাজের লাভ ও জনস্বার্থ সম্পর্কেও তাকে জানাতে হবে। এসব বিষয়ে আলোচনার পরই কেবল আপনি বলতে পারেন যে সূত্র ‘সজ্ঞানে’ নাম প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। ইমেইলে বা ফোনে যোগাযোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সূত্র ঠিকঠাক বুঝেছে কি না, তা-ও নিশ্চিত হতে হবে।

যেখানে আড়িপাতা, ফোনকল রেকর্ড করা বা ইমেইল হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে, সেখানে সূত্র সংশ্লিষ্ট কোনো কিছু আলোচনা করবেন না। মনে রাখতে হবে, মুঠোফোনের কলসহ ফোনরেকর্ড পাওয়া এবং আপনার অবস্থান শনাক্ত করা খুব সহজ। গোপন কোনো সাক্ষাতে যাওয়ার আগে আপনার মুঠোফোন বন্ধ করে তার ব্যাটারি বের করে ফেলুন। সূত্র সম্পর্কে তথ্য রয়েছে এমন কোনো নোট নিরাপদ জায়গায় রয়েছে, তা নিশ্চিত করুন; অথবা তৃতীয় কারও কাছে রাখতে পারেন, যিনি আপনার অনুসন্ধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন।

প্রভাবশালীদের অপরাধ, কথার ঘোরপ্যাঁচ, মিথ্যা ও ভুল তথ্য মোকাবিলার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এমন সূত্র খুঁজে বের করা যিনি রাখঢাক না করে আপনার সঙ্গে কথা বলবেন। তেমন সূত্র খুঁজে পেতে আপনার সময় লাগবে। যদিও আপনি কথা বলতে বা আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য জানাতে কাউকে জোর করতে পারেন না। তাদের সংশয়ের কারণ আপনাকে বুঝতে হবে; বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে ভয় পাবেন না। একটি ভালো প্রশ্ন হতে পারে: ‘আপনার নাম যদি প্রকাশ পায়, তাহলে কী হতে পারে?’ কখনো কখনো ভয়টা ব্যক্তিগত; সূত্র যদি অনিবন্ধিত অভিবাসী হয়ে থাকে তাহলে তার পরিচয় প্রকাশের পরপরই তাকে বিতাড়ন করা হবে; একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়তো বরখাস্ত, এমনকি গ্রেপ্তারও হতে পারেন; এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি হয়তো সমাজের অন্যদের আক্রমণের শিকার হবেন। তথ্য আদানপ্রদানের আগে সূত্রের কাছে ব্যাখ্যা করুন যে অন্য কারও কাছে হয়তো তাদের পরিচয় আপনাকে জানাতে হবে। ব্যাখ্যা করুন, কীভাবে আপনি তাদের অবস্থান, অতীত ইতিহাস, সামাজিক অবস্থান, এমনকি লিঙ্গসহ যাবতীয় পরিচয়ের কথা গোপন রাখবেন। সূত্র কোনো তথ্য বা পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করলে বা কোনো অংশ অনানুষ্ঠানিক বা অফ দ্য রেকর্ড দাবি করলে তার সে অনুরোধ মেনে নিন; অনানুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া তথ্য যে শুধু পটভূমি ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হবে সেবিষয়ে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করুন। তাঁকে বোঝাতে হবে যে আপনার সম্পাদক ও অন্য যে সহকর্মীরা প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট হবেন, তাঁরাও বিষয়টি বুঝবেন। আপনার সম্পাদক হয়তো সূত্রের নাম প্রকাশ করতে বলবেন। আপনি যখন এটি করবেন, পুরোপুরি পরিষ্কার করুন যে এই তথ্য সম্পাদকের কার্যালয়ের বাইরে যাবে না। প্রতিবেদক ও সূত্রের মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি। পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি কাউকে দিয়ে থাকলে আপনাকে অবশ্যই সে প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে; এমনকি যদি তার পরিণতিতে কারাবরণ করতে হয়। তবে আগেভাগেই সূত্রকে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন না যা আপনি রাখতে পারবেন না; প্রতিশ্রুতি রাখতে না পারার কারণে কোনো সূত্রের নির্যাতন বা মৃত্যুর নৈতিক দায়বদ্ধতা বহনের চেয়ে অজ্ঞাত বা গোপন সূত্রের তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন তৈরি অপেক্ষাকৃত ভালো।

মনে রাখতে হবে, অনেক দেশে সূত্রের নাম-পরিচয় জানতে প্রতিবেদক ও সম্পাদকদেরও নির্যাতন করা হয়। যেহেতু এসব দেশে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ফৌজদারি আইনে বিচার হয়, কাজেই বিচারে সূত্রের নাম প্রকাশের নির্দেশ আসতে পারে, এবং এই নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানানোর অর্থ আদালতের কাজে বাধা বা আদালত অবমাননার মতো অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে, আর তা হলে কারাদন্ড হতে পারে। কাজেই সূত্রকে রক্ষায় আপনি কত দূর পর্যন্ত যেতে পারবেন, তা অনুসন্ধান শুরুর আগে নির্ধারণ করে নিতে হবে।

“নিজের একটি সূত্র খুন হওয়ার ঘটনা সাংবাদিক হিসেবে আমার জন্য সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা। কারণ ওই সূত্র আমাকে যত তথ্য দিয়েছিলেন, তার চেয়ে অনেক বেশি তথ্য তাঁর নিজের কাছে ছিল। কিন্তু তিনি একটু প্রতিক্রিয়া দেখতে চেয়েছিলেন। তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যাদের সঙ্গে কাজ করতেন, তাদের বুঝে উঠতে সমস্যা হয়নি এবং তাঁকে হত্যা করা হয়। কাজেই সূত্র হিসেবে আপনার এলামেলোভাবে বা টুকরো টুকরোভাবে তথ্য দেওয়া উচিত নয়, যাতে আপনাকে মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। তার চেয়ে বরং নিজের নাম ব্যবহার করে ঝুঁকি নেওয়া ভালো, যাতে আপনার কিছু হলে বিষয়টি পরিষ্কার বোঝা যায় আপনার তথ্য ফাঁসের কারণে ( হুইসেলব্লোয়িং) তা ঘটেছে। সূত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার এটি আরেকটি পদ্ধতি।” – স্যাম সোল, মেইল অ্যান্ড গার্ডিয়ান, জোহানেসবার্গ।

সূত্রের পরিচয় গোপন রেখে প্রতিবেদন তৈরির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সূত্রকে রক্ষা করা। অজ্ঞাত সূত্রকে পর্যবেক্ষণে রাখা কঠিন, এর মাধ্যমে ত্রুটিপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন উৎসাহিত হয় এবং নিশ্চিতভাবেই প্রতিবেদনে পাঠকের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে। তবে অতিরিক্ত স্বাক্ষ্যপ্রমাণকে এ ধরনের সূত্রের প্রত্যক্ষ বিবরণ, ভেতরের খবর, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে নিশ্চিত করতে পারে, কিংবা সেদিকে পথ দেখাতে পারে। কাজেই পরিস্থিতির নিরিখে সূত্র ও প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করুন। প্রতিবেদনে আপনি সূত্রকে কীভাবে উপস্থাপন করবেন, সে ব্যাপারে তার সঙ্গে সমঝোতায় আসুন এবং নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁদের বর্ণনা যতটা সম্ভব স্পষ্ট করুন। ‘একজন বিজ্ঞানীর চেয়ে বন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করা একজন পরিবেশ বিজ্ঞানী’ বিবরণটি অপেক্ষাকৃত ভালো- যদি না ওই মন্ত্রণালয়ে তিনিই একমাত্র পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করে থাকেন।

নিজের সুরক্ষা


দেশ ভেদে সাংবাদিকের সুরক্ষা আইনের ভিন্নতা আছে। ঠিক যেমন ভিন্নতা আছে আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসাবে কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। কাজেই এই আইনগুলো সম্পর্কে জানা আপনার দায়িত্ব। আপনি কী ধরনের ঝুঁকি নিতে যাচ্ছেন এবং তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হবে, তাও আপনাকে বুঝতে হবে।

সূত্রের সঙ্গে সাক্ষাতের কোন জায়গাটা ভালো হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনসমক্ষে দেখা করা ভালো, নাকি একান্তে? সাক্ষাতের সময় আশপাশে মানুষ ও কোলাহল থাকা ভালো, নাকি তা হওয়া উচিত গোপন পরিত্যক্ত কোনো জায়গায়? সাক্ষাতের এলাকা ক্যামেরা নজরদারির আওতায় আছে কি না, তাও বিবেচনায় রাখুন। যদি আশঙ্কা থাকে, কেউ স্পর্শকাতর আলোচনা শুনে ফেলতে পারে, তাহলে কোলাহলপূর্ণ এলাকায় সাক্ষাৎ করুন। কোলাহলের কারণে আপনাদের কথাবার্তা অন্যের (এবং আড়িপাতা যন্ত্র) জন্য শোনা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে রেকর্ড রাখুন- লিখিত, কম্পিউটারে কিংবা অডিও বা ভিডিও রেকর্ডে। রেকর্ড যথাসম্ভব সঠিক হতে হবে, তারিখ থাকতে হবে এবং তা এমনভাবে রাখতে হবে যেন প্রয়োজন হলেই তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। সূত্রের কাছে যে তথ্য আছে বলে তিনি দাবি করছেন তা তাঁর কাছে থাকা সম্ভব কিনা, সে ব্যাপারে একদম পরিষ্কার হয়ে নিন। সূত্র আসলেই কী দেখেছে বা জেনেছে বা বলার জন্য প্রস্তুত আছে, তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খোঁজখবর করুন এবং সূত্রের পুরো বক্তব্যেরই বিস্তারিত হুবহু লিখুন বা রেকর্ড রাখুন। নিজের ভাষায় লিখতে যাবেন না। সূত্রের সঙ্গে আপনার হওয়া সব ধরনের যোগাযোগের পূর্ণ রেকর্ড রাখুন। তার দাবি করা অর্থ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে বা তাকে অর্থ দেওয়ার সময় যে কথা হয়েছে, তার রেকর্ডও রাখুন। প্রতিবেদন তৈরির ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রসিদগুলোও সংরক্ষণ করুন।

সূত্রের সঙ্গে স্বচ্ছ ও সৎ সম্পর্ক বজায় রাখুন। কোনো কারণেই তাদের সঙ্গে মিথ্যা বলবেন না বা বিভ্রান্ত করবেন না। যে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন না, তা সূত্রের সঙ্গে করবেন না, কিংবা এমন কোনো পরিণতির ভবিষ্যদ্বাণী করবেন না, যা হয়তো ঘটবেই না। সূত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়বেন না বা তাদের এমন কোনো সমস্যা সমাধান করতে যাবেন না, যার কারণে তাদের সঙ্গে পেশাদারি দূরত্ব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

আপনাকে যে সত্য বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে আপনার সব ধরনের চেষ্টাই চালাতে হবে। কাজেই সূত্রের দেওয়া তথ্য আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় ও সংশয়ের সঙ্গে অগ্রসর হতে হবে। তাদের ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নিন, এবং যে তথ্য তারা লুকানোর চেষ্টা করে, তার ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ হোন। কঠিন কঠিন প্রশ্ন করুন। তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত বিচ্ছেদ ও সমস্যার ব্যাপারে প্রস্তুত হোন এবং ভুল কিছু ঘটছে কি না, সে ব্যাপারে সবসময়ই জিজ্ঞাসাবাদ করুন। নির্ভুল প্রত্যক্ষদর্শী বলে কিছু নেই, এবং কোনো সূত্রের সম্পর্কে আপনি আগে জানতেন না এমন কোনো তথ্য পরবর্তীতে কেউ দিলে আপনি অবাক হবেন না। সূত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাইরে তিনি যদি আপনার প্রতিবেদন তৈরি বা তার উপাদানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চান, তবে তা প্রতিহত করুন।

হলফনামা


আপনার ও আপনার প্রত্যক্ষদর্শীর সুরক্ষার জন্য একটি উপায় হতে পারে আইনিভাবে স্বীকৃত, স্বাক্ষরিত, সাক্ষ্যের ভিত্তিতে রচিত হলফনামা। এ ধরনের আইনি বিবৃতি, যার প্রতিটা পৃষ্ঠায় আইনজীবীর উপস্থিতিতে স্বাক্ষর করা হয়, বেশির ভাগ দেশের আদালতে গ্রহণযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ। এতে ইঙ্গিত বহন করে যে প্রয়োজন পড়লে আপনার সূত্র স্বেচ্ছায় আদালতে হাজির হয়ে প্রমাণ দেবেন। বিশ্বাসযোগ্য কোনো আইনজীবীর কাছেই হলফনামা সংরক্ষণ করতে দিতে হয়। আপনার প্রতিবেদনের কারণে কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ বা পদক্ষেপ আসলে এই হলফনামাই পরিষ্কার করে দেবে যে আদালত সুরক্ষার ব্যবস্থা করলে আপনার সূত্র নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে প্রস্তুত আছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য যদি আপনার সূত্র পরে অস্বীকার করে, তাহলে এই হলফনামা আপনাকে সুরক্ষা দেবে।

হলফনামাটি আপনার প্রতিবেদনে সাহায্য করবে কিনা, তা চিন্তা করুন। আপনার সোর্স হয়তো আইনি কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা দেখে ভয় পেয়ে যেতে পারে। ফলে আগে আপনাকে তার আস্থা অর্জন করতে হবে। বা দলিলপত্র, রেকর্ডিংয়ের মতো তথ্যপ্রমাণের সুরক্ষার জন্য অন্য কোনো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করতে হবে।

হুমকি ও হয়রানি মোকাবিলা


আপনি যার ব্যাপারে প্রতিবেদন করছেন, তিনি যদি ক্ষমতাধর ও বিপজ্জনক হয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো ব্যক্তিগত সংঘাত এড়াতে আপনি সরাসরি সাক্ষাতের বদলে তাঁর কার্যালয়ে প্রশ্ন পাঠিয়ে জবাব চাইতে পারেন। তাদের এলাকায় না ঢোকা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে নিজের চেহারা না চেনানোই এ ক্ষেত্রে উত্তম। লিখিত প্রশ্নের উত্তর (সাক্ষাৎকার) হয়তো ততটা ভালো হবে না, কিন্তু প্রতিবেদনটি রচনার জন্য অন্তত আপনি জীবিত থাকবেন।

এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করার আগে জেনে নিন, আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে কতখানি সুরক্ষা দিতে পারবে। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে নিজের সুরক্ষার কিছু ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে।

ক্ষমতাধর কোনো ব্যক্তি বা সত্ত্বাকে গুরুতর কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা আইনি ঝামেলাসহ শারীরিক হামলা ও হুমকির ঝুঁকি তৈরি করে। আইনি হুমকি হয়তো আপনার সম্পাদক যেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করেন, সে জন্য দেওয়া হয়। এবং তিনি হয়তো সেটাই করবেন। কিন্তু আপনার তথ্য যদি সঠিক হয়, তাহলে সম্পাদককে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে এ ধরনের মানুষেরা হুমকি দিলেও মানহানির মামলা খুব একটা করেন না। প্রথমত, তাদের এমনিতেই দুর্নাম আছে যা আদালতে তাদের অবস্থান দুর্বল করে দেবে (এই যুক্তি উদাহরণস্বরূপ অস্ত্র বাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে খাটে); এবং দ্বিতীয়ত, আদালতে একটি মামলার কারণে যে তথ্য তারা গোপন করার চেষ্টা করছে, তার সব সাক্ষ্যপ্রমাণ বেরিয়ে আসতে পারে। আপনি যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করেন যিনি ভয়ভীতি দেখান, বিচারে প্রভাব বিস্তার করেন অথবা অন্য যে কোনো প্রকার হুমকি দেন, তাহলে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট অথবা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য কামনা করুন।

আরো তথ্য দেখতে পারেন এখানে: https://www.cpj.org/about/ ev https://rsf.org/en.

ঝুঁকির মুখে থাকা সাংবাদিকদের সহায়তা করছে এমন সংগঠনগুলোর খোঁজ পাবেন এখানে: http://gijn.org/2014/07/14/new-resource-guide-emergency-assistance/


সূত্র বাছাই এবং তাঁদের সঙ্গে দেখা করার ঝুঁকি যাচাইয়ের পর সময় হচ্ছে আসল সাক্ষাৎকারের। পরবর্তী অধ্যায়ে সাক্ষাৎকারের প্রশ্নগুলোর পরিকল্পনা, সাক্ষাৎকারের সময় কেমন আচরণ করা উচিত এবং সফল হওয়ার জন্য যেসব নীতি অনুসরণ করা উচিত তা আলোচনা করা হবে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজধানীতে বাসা থেকে কলেজছাত্রীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

সিলেট থেকেই নির্বাচনী সফর শুরু ?

উত্তরাঞ্চল সফর হলো না, তারেক রহমানের নির্বাচনী সফর সিলেট থেকেই শুরু?

ইরানের শেষ শাহের পুত্র রেজা পাহলভি কে?

জকসু নির্বাচন : কেন্দ্রীয় সংসদে ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৬৫ শতাংশ

চমৎকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনও ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে যদি লেখা গোছানো এবং ভালো না হয়

সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যথাযথ প্রশ্ন করুন

অনুসন্ধানী সাংবাদিক যেভাবে পাবেন ভেতরের খবর

গবেষণা, গবেষণা, গবেষণা

তথ্য-উপাত্ত সুরক্ষার কৌশল

১০

কীভাবে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করবেন?

১১

অনুসন্ধানী সাংবাদিকের খবরের সন্ধান

১২

অনুসন্ধানী সাংবাদিক যেভাবে হবেন

১৩

জমে উঠেছে জকসু নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর হিড়িক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা আলোচনা

১৪

বিজ্ঞপ্তির ১ ঘণ্টা পরও ফল দেখতে পারছেন না জবির ভর্তিচ্ছুরা, ডিন বললেন- ‘ভুলে হয়েছে’

১৫

প্যাথলজিক্যাল ল্যাব রিপোর্টে হাতে স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

১৬

বৈধ বিএনপির ২ প্রার্থী, বাদ জামায়াত-এনসিপির দুজন

১৭

আপিলের প্রথম দিনে যে ৪২ আসনের আবেদন জমা পড়ল

১৮

চাঁদাবাজির মামলায় জামিন মুক্তি পেয়েছেন ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী

১৯

সারাদেশে শুরু হচ্ছে যৌথবাহিনীর অভিযান

২০