এই অধ্যায়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার রীতিনীতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে অনুসন্ধানী ও রোজকার সাংবাদিকতার মধ্যে। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কোন কোন গুণ ও দক্ষতা থাকতে হয়, এবং অনুসন্ধানী কাজের জন্য সুনির্দিষ্ট বিষয় ও পদ্ধতি কী হতে পারে, তা-ও জানা যাবে এই অধ্যায় থেকে।
১. অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কী?
পানামা পেপার্স, চার্চের মধ্যে নিয়মতান্ত্রিক যৌন নিপীড়ন নিয়ে বস্টন গ্লোবের উন্মোচন, ওয়াটারগেট; অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কথা চিন্তা করলে এই সামান্য কিছু উদাহরণই মাথায় আসে। এই প্রতিবেদনগুলো নাড়া দেয়, নতুন কিছু উন্মোচন করে, এবং কখনো কখনো পরিবর্তনও আনে।
কিন্তু এসব সাড়া জাগানো প্রতিবেদন কিভাবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা হয়ে ওঠে?
ব্রিটিশ লেখক জর্জ অরওয়েল যেমনটি বলেছেন, “সাংবাদিকতা হলো এমন কিছু প্রকাশ করা যা অন্য কেউ প্রকাশ করতে চাইবে না। বাকি সব কিছু জনসংযোগ।” সাংবাদিকতার বেশিরভাগ কাজে, এমনকি প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজের কাজেও অনুসন্ধানের উপাদান থাকে। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বলা যেতে পারে এমন কোনো কিছুকে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে লম্বা সময় ধরে গভীর, বিশ্লেষণধর্মী কাজ করা হয়। এই কাজে কয়েক মাস বা বছরও লাগতে পারে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা একটি খবরের গভীরে গিয়ে তুলে আনেন দুর্নীতি, পর্যালোচনা করেন সরকারী বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা, অথবা কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক প্রবণতার দিকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একা হোক বা দল বেঁধে – অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা একটি বিষয় নিয়ে গবেষণায় কয়েক মাস, এমনকি বছরও ব্যয় করতে পারেন। প্রচলিত খবরের ক্ষেত্রে যেখানে সাংবাদিকেরা সরকার, এনজিও এবং অন্যান্য সংস্থাগুলোর সরবরাহ করা তথ্যের ওপর নির্ভর করে, সেখানে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে রিপোর্টার নির্ভর করেন, তার নিজস্ব উদ্যোগে সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর। হয়তো তিনি অনেক নথিপত্রসহ কোনো ইমেইল পেতে পারেন বা দীর্ঘদীনের পরিচিত কোনো সূত্র তাঁকে কোনো কর্পোরেট ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জানাতে পারে। যে কোনো ক্ষেত্রে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার লক্ষ্য হলো, জনস্বার্থে এমন কিছু উন্মোচন করা, যা ইচ্ছা করে বা অনিচ্ছায় গোপন রাখা হয়েছিল।
জনস্বার্থ বোঝার একটি কার্যকর উপায় হলো, এমন কোনো বিষয় যা না জানার কারণে একটি জনগোষ্ঠী অসুবিধায় পড়ে, অথবা জেনে (বস্তুগতভাবে বা তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে) উপকৃত হয়। কখনও কখনও একটি জনগোষ্ঠী কোনো তথ্য জানার কারণে উপকৃত হলেও আরেকটি গোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটি উদাহরণ: বনজীবিরা যদি জানেন খোলা বাজারে কত চড়া দামে কাঠ বিক্রি হয়, তাহলে তারা কাঠব্যবসায়ীদের কাছে গাছের বেশি দাম চাইতে পারেন। কিন্তু, কাঠব্যবসায়ীরা চান কম দামে গাছ কিনতে। তাই তারা কাঠের বাজারমূল্য গোপন রাখতে চান, কারণ তা না হলে গাছের দাম বেড়ে যেতে পারে। একটি রিপোর্টের কারণে গোটা দেশকে উপকৃত হতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। আর প্রায়ই ‘জনস্বার্থ’কে ‘জাতীয় স্বার্থ’ থেকে আলাদা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা করা হয়। পরবর্তী বিষয়টি অর্থাৎ ‘জাতীয় স্বার্থ’ শব্দটি সরকার কখনও কখনও অবৈধ, বিপজ্জনক বা অনৈতিক কাজকে বৈধতা দিতে অথবা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের রিপোর্ট করা থেকে নিরূৎসাহিত করতে ব্যবহার করে থাকে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হুট করে হয় না। একে গড়ে তুলতে হয় ধীরে ধীরে – পরিকল্পনা, গবেষণা ও রিপোটিংয়ের একেকটি ধাপ পেরিয়ে, এবং তথ্য-প্রমাণের নির্ভুলতা নিশ্চিত করার স্বীকৃত মান মেনে। গবেষণা নানা রকম হতে পারে; তা সে ছদ্মবেশ ধারণ করা হোক, অথবা ডেটা মাইনিং করে একটি উপসংহারে আসা। ফলাফল যা-ই হোক না কেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিছক সোর্সের দেয়া টিপ বা প্রাথমিক তথ্য যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তাকে আরো অনেক দূর যেতে হয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এমন কিছু উন্মোচন করতে হয়, যা এতদিন অজানা ছিল, বা পুরনো তথ্যকে এমনভাবে সাজাতে হয় যেন তা নতুন কোনো তাৎপর্য তুলে ধরে। একক সোর্স থেকে আপনি চমকপ্রদ তথ্য পেতে পারেন, যে গোপন খবর সে না জানালে হয়তো আড়ালেই রয়ে যেত। কিন্তু সেই তথ্যকে যতক্ষণ না – নিজের সরেজমিন অভিজ্ঞতা, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ – ভিন্ন ভিন্ন সূত্রের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে এবং তার সত্যিকারের অর্থ জানা যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে অনুসন্ধান বলা যাবে না।
রোজকার সংবাদ প্রতিবেদনের তুলনায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সম্পদ, জনবল এবং সময় – সবই বেশি লাগে। অনেক প্রতিবেদন দল হিসেবে করতে হয়। কিন্তু ছোট, স্থানীয় ও জনগোষ্ঠীভিত্তিক গণমাধ্যমের জন্য বিষয়টি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য সময়, অর্থ, কর্মী এবং বিশেষায়িত দক্ষতা – সব কিছুরই ঘাটতি থাকে, যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন অবস্থায় অনুসন্ধানকে এগিয়ে নিতে একজন রিপোর্টারের অনুদান প্রয়োজন হতে পারে এবং তাকে বার্তাকক্ষের বাইরের বিশেষজ্ঞ দক্ষতা ব্যবহারের কৌশলও শিখতে হতে পারে।
দলগত কাজের পক্ষে ও বিপক্ষে কঙ্গোলিজ সাংবাদিক সেজ-ফিদেল গায়ালার বিশ্লেষণ: ‘ছোট দলে কাজ করার সময় নিশ্চিত করতে হয়, যেন প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর এক-একটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ জ্ঞান থাকে। একজন মাঠ পর্যায়ে মূল তদন্ত করবেন, অন্য আরেকজন গবেষণায় ও প্রামাণ্য উপাদান সংগ্রহে দক্ষ হবেন এবং তৃতীয়জন প্রতিবেদনটি লিখবেন। এতে একটি দলের পক্ষে দ্রুত কাজ করা এবং প্রতিবেদন সবার আগে সময়োচিতভাবে প্রকাশ করার ভালো সম্ভাবনা থাকে। তবে মনে রাখতে হবে যে, বিভিন্ন দেশগুলোর যেসব বার্তাকক্ষে আমরা কাজ করি, সেখানকার পরিবেশ সব সময় স্বচ্ছ থাকে না। শিল্পখাত, ব্যবসা বা নীতিনির্ধারকদের পেতে রাখা ফাঁদে বার্তাকক্ষের অনেকেই পা দিয়ে থাকতে পারেন। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের হুমকি বা ‘সাংবাদিক কেনার’ বিষয়ও থাকতে পারে। এমনকি আমাদের অনেক পত্রিকার নিজেদেরই সন্দেহজনক উৎস রয়েছে, যেখানে তারা শুরুতে এক বা একাধিক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে কখনও কখনও সম্পাদকরা যেমন প্রাথমিক লক্ষ্যে পরিণত হন, তেমনই কখনও কখনও তাঁরাই প্রধান অপরাধীর ভূমিকা নেন। এই পরিস্থিতিতে যখন কোনো তরুণ সাংবাদিককে কাজ করতে হয়, তখন তার পক্ষে একটি অনুসন্ধানী প্রকল্প শেষ করতে অশেষ বাধার সম্মুখীন হতে হয়।’
অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা কি গোয়েন্দা?
অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের দক্ষতার মধ্যে সাদৃশ্য আছে। প্রতিটি অনুসন্ধান একটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু হয়। সাংবাদিক প্রথমে একটি হাইপোথিসিস বা অনুমান দাঁড় করান। তারপর আরও গবেষণা করেন: প্রচুর নথিপত্র খুঁজতে থাকেন, বিভিন্ন সাক্ষাৎকার নেন, যা কখনও কখনও জিজ্ঞাসাবাদের মতো মনে হতে পারে, এবং প্রচুর স্বাক্ষ্যপ্রমাণ জড়ো করেন- যার কিছু কিছু অত্যন্ত বিশদ বা কারিগরী।
কোন সাক্ষ্যটি শেষ পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র প্রমাণ হিসেবে বৈধ বলে গণ্য হবে, তা যাচাইয়ের জন্য সাংবাদিকেরাও স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করেন, ঠিক আদালতে যেমন হয়। যেহেতু মানহানির মত আইন আছে, তাই আদালতে মামলা চালানোর জন্য কোনো গোয়েন্দা যে ধরণের তদন্ত ও তথ্যের সত্যতা যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন, একজন সাংবাদিকের তদন্তও তেমনটাই হতে হয়।
প্রশ্ন হলো, পরিচয় গোপন করে কিম্বা গোয়েন্দাদের মতো লুকানো মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা ব্যবহার করা একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের উচিত কি না? এই প্রশ্নের উত্তর বেশ জটিল। অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা – বিশেষত এ ধারার সেরা রিপোর্টারদের কেউ কেউ – এসব কৌশল ব্যবহার করেন। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, গোয়েন্দারা পরিচয় লুকিয়ে কাজ করবেন কিনা, এবং পুলিশি তদন্তের সময় নাগরিক কোন কোন অধিকার ভোগ করবেন – তা সাধারণত আইন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু সাংবাদিক এধরণের কাজের বেলায় নিজের নৈতিক বোধের ওপর নির্ভর করেন। একইসাথে মাথায় রাখতে হয়, সাংবাদিকরাও ব্যক্তি-গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) আইনের আওতামুক্ত নন। তাই অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের এ ধাঁচের কাজ করার আগে প্রতিটি পরিস্থিতিকে সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়, যাতে সাংবাদিকতার নৈতিক মান বজায় থাকে এবং আইনভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যায়। গোপন ক্যামেরা ও রেকর্ড কখনোই মূল স্বাক্ষ্যপ্রমাণের বিকল্প নয়, বরং তার সঙ্গে বাড়তি হিসাবে যুক্ত হতে পারে। মূল স্বাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ, তা যাচাই ও পটভূমি ব্যাখ্যার মাধ্যমেই প্রতিবেদন অর্থবহ হয়। উন্মুক্ত নথি (সরকার বা প্রতিষ্ঠান যেসব তথ্য সবার জন্য প্রকাশ করে রেখেছে) ঘেঁটেই ভুরি ভুরি প্রমাণ হাতে পাওয়া সম্ভব, শুধু জানা চাই কোথায় খুঁজতে হবে এবং কীভাবে এগুলোকে একটির সঙ্গে আরেকটিকে সংযুক্ত করতে হবে।
একজন গোয়েন্দা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাজে অনেক মিল থাকলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যের ক্ষেত্রে পার্থক্য আছে। কখনো কখনো সাংবাদিকসুলভ অনুসন্ধানের লক্ষ্য কাউকে দোষী প্রমাণ করা নয়, বরং শুধুই ঘটনার সাক্ষ্য দেওয়া। অপরাধ কে করেছে, তা প্রমাণ করতে পারলেই গোয়েন্দার কাজ শেষ হয়। কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শুধু অনিয়মকারীকে অভিযুক্ত করা হয় না, বরং নানা ঘটনার মধ্যে সংযোগও উন্মোচন করা হয়। ফলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শুধু অভিযুক্তের দিকে আঙুল তাক করে না, বরং ঘটনার প্রতিটি আঙ্গিক ও প্রসঙ্গের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হাজির করে। নিজেদের কাজে এতোটা গভীরে যেতে পারলে রিপোর্টার কাজটির বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্নে সংশয়মুক্ত হতে পারে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে ‘জার্নালিজম অব আউটরেজ’-ও (যে সাংবাদিকতা ক্ষোভ জাগায়) বলা হয়। অনুসন্ধানী রিপোর্ট দুই পক্ষের মধ্যে কৃত্রিমভাবে ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করে না। বরং যে প্রতিবেদন করা হবে, তার বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করাতেই এখানে বেশি জোর দেওয়া হয়। ‘আমাদের ভুল হতে পারে’, বা ‘আমাদের বুঝতে ভুল হতে পারে’-এমন ধরনের কোনো বাকচাতুরির সুযোগ এখানে নেই। এমন কোনো সন্দেহ থেকে থাকলে বুঝতে হবে যে, অনুসন্ধান যথেষ্ট গভীরে যায়নি এবং খবরটি এখনো ছাপার যোগ্য হয়ে ওঠেনি। একটি রিপোর্টের কখনোই দুটি মাত্র দিক থাকে না। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভারসাম্যটি আসে বহু মতকে ব্যাখ্যার মাধ্যমে এবং কী ঘটেছে -এর পাশাপাশি কেন ঘটেছে, তা তুলে ধরার মাধ্যমে। একজন গোয়েন্দা বিভিন্ন ঘটনাকে সূত্রবদ্ধ করে সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যার বিষয়টি অভিযুক্তের আইনজীবীর ওপর ছেড়ে দেন, সেখানে একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে পুরোটাই ব্যাখ্যা করতে হয়।
অন্যদিক থেকে দেখতে গেলে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা অনেকটা বিজ্ঞানীর মতো কাজ করেন। একটি প্রতিবেদনের ধারণাকে সমর্থন করার মতো যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ জড়ো করার আগ পর্যন্ত তাকে চোখ-কান খোলা রেখে কাজ করার নীতিতে চলতে হয়। এর মানে হচ্ছে রিপোর্টারের ধারণার বিরুদ্ধে যায় এমন প্রমাণকে অগ্রাহ্য না করা এবং স্বাক্ষ্যপ্রমাণ ভিন্নদিক নির্দেশ করলে, উপসংহার বদলের মানসিকতা থাকা। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ব্যবস্থাপকও বলা চলে। গভীর গবেষণা প্রয়োজন -এমন বড় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিশেষজ্ঞসহ দলের অন্য সদস্যদের নিয়ে রিপোর্ট-বিষয়ক পরিকল্পনার পেছনে লেগে থাকতে হয়। এ কারণে তাদের স্পষ্ট যোগাযোগ-কৌশলের পাশাপাশি দলীয়ভাবে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হয়।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নিয়ে যত ভুল ধারণা
এটি গ্ল্যামারাস।
সম্ভবত এ কারণেই ‘অল দ্য প্রেসিডেন্ট’স মেন’-এর প্রচ্ছদে ওয়াটারগেট কেলেংকারি উন্মোচন করা সাংবাদিকদের কোনো ছবি নেই। ছবি আছে তাদের চরিত্রে অভিনয় করা দুই তারকা রবার্ট রেডফোর্ড ও ডাস্টিন হফম্যানের। তাই ভ্রান্তি-বিলাসে থাকবেন না। বাস্তবতা বলছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কঠিন, নিরস এবং কখনো কখনো বিপদজনক।
সাংবাদিকেরা তাদের প্রতিবেদনের চেয়েও বড়।
অহংকার ভুলে যান। মনে রাখবেন অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মূলত জনসেবা। অনুসন্ধানী সাংবাদিক হয়েছেন বলে, পেশার নৈতিক মানকে অবজ্ঞা করার কোনো অধিকার আপনার নেই।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা নিঃসঙ্গ প্রহরীর মত।
সিনেমায় যেমন একজন নায়ক থাকে, মনে হয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায়ও বুঝি একজনকে ঘিরেই যাবতীয় কাজ পরিচালিত হয়। কিন্তু বাস্তবে তা নয়; দলীয় প্রচেষ্টা ছাড়া অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ঠিক টেকসই হয় না
বেসরকারি গণমাধ্যমই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করে।
এটি আংশিক সত্য। কিন্তু, এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে সরকারি গণমাধ্যমই সরকারের বিরুদ্ধে বড় বড় অনুসন্ধান চালিয়েছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দৃষ্টি শুধু মন্দ খবরের দিকে।
অন্যায় খুঁজে বের করা এবং তা শোধরানোই কোনো জনগোষ্ঠী ও তার সেবক গণমাধ্যমের অগ্রাধিকার। কিন্তু, ইতিবাচক সংবাদকে সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভূমিকা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবমূর্তি নিবারণ করাটাও ভালো অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভিত্তি হতে পারে। বরং বিখ্যাত ব্যাক্তির ভাবমূর্তিতে ‘কালিমা লেপন’ বা চরিত্রহনন ঘরানার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় মানুষ অখুশি হয়। কারও জীবনে অন্যদের নাক গলাতে উৎসাহ দেওয়া ছাড়া কুৎসা রটনার আর কোনো অর্থই হয়তো নেই। সত্যিকারের অনুসন্ধানে উঠে আসা কেলেঙ্কারিকে অবশ্যই ব্যক্তিগত গন্ডি ছাপিয়ে বড় কোনো কিছুতে পৌঁছাতে হবে, যা কিনা জনস্বার্থের ওপর প্রভাব ফেলছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মানে নেহাতই ভালো সাংবাদিকতা।
এই সংজ্ঞার মূলে রয়েছে সেই প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি, যা সাংবাদিক বলতেই বোঝে ‘সতর্ক প্রহরী’, যার কাজই হচ্ছে অন্যায় খুঁজে বের করা, দোষীদের চিহ্নিত করা, এবং এমনভাবে রিপোর্ট করা, যাতে পরিবর্তন ঘটে। এটি অবশ্যই তাদের দায়িত্বের একটি অংশ। দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যদি কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন – শুধু অপরাধকেই শনাক্ত করে, এমন অপরাধের সুযোগ করে দেয় যে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা, তাকে শনাক্ত করতে না পারে, তবে তা আদতে নতুন আরেকদল অপরাধীর জন্যে একই ধরনের অপরাধ করার পথ প্রশস্ত করে (এমনকি এই অপরাধ সংঘটনের উত্তম উপায়টিও হয়তো বাতলে দেয়)। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মূল সমস্যাকে শনাক্তের পাশাপাশি, সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে হয়। যারা ক্ষমতাসীন, তারা ব্যর্থ হলে তারও কারণ অনুসন্ধান করে ফলোআপ প্রতিবেদন করতে হয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কেন করবেন?
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দৈনন্দিন ঘটনাবলির ওপর যখন মোটামুটি সন্তোষজনকভাবে পত্রিকা বের করা যায়, তখন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে এ ধরনের কঠিন কাজের জন্য সম্পাদককে রাজি করানোর প্রশ্ন আসে।
তাহলে এটি করবেন কেন? কারণ নির্ভুল তথ্য, খুবই দারুনভাবে গল্পের মাধ্যমে বলতে পারলে তা পরিবর্তন আনতে পারে। গত কয়েক বছরের পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী প্রতিবেদনগুলো দেখলেই বোঝা যায়, কিভাবে একটি ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভিন্ন কমিউনিটি বা পলিসিতে প্রভাব রাখতে পারে। ২০১৮ সালে, এই পুরস্কার পেয়েছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। তারা উন্মোচন করেছিল অ্যালাবামার এক সিনেট প্রার্থীর অতীত যৌন হয়রানির ঘটনার অভিযোগ। এবং এটি সিনেট নির্বাচনের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছিল। ২০১৭ সালে পুলিৎজার জিতেছিলেন চার্লেসটন গ্যাজেট-মেইলের রিপোর্টার এরিক আয়ার। তিনি দেখিয়েছিলেন কিভাবে পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় বিপুল পরিমাণ আফিম জাতীয় নেশা-পণ্য ঢুকছে। এবং ২০১৬ সালে পুরস্কারটি জিতেছিলেন ফ্লোরিডার দুইটি ভিন্ন ভিন্ন সংবাদপত্রের দুজন রিপোর্টার। তাঁরা একজোট হয়ে অনুসন্ধান করে দেখিয়েছেন, কিভাবে অঙ্গরাজ্যের মানসিক হাসপাতালগুলোতে সহিংসতা বাড়ছে।
তদুপরি, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রশ্ন ছাড়াই সরকারি ভাষ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদন তৈরির মানে, ক্ষমতাসীনদের হাতে এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার তুলে দেয়া। জনমতের প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি ও সরকারের স্বচ্ছতার মতো গণতান্ত্রিক মূলনীতিগুলোয় ধস নামে, যখন গণমাধ্যম বিভিন্ন পক্ষের দাবি-পাল্টা দাবির যথার্থতা যাচাইয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো করে না কিংবা তথ্য ও বিশ্লেষণ হাজির করে না।
কীভাবে ভালো অনুসন্ধানী সাংবাদিক হওয়া যায়?
অনুসন্ধানী সাংবাদিক হুট করে হওয়া যায় না। কিন্তু তাদের সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। এগুলোর প্রতি যতœবান হোন, তাহলে দেখবেন আপনি আপনার পরবর্তী কোনো বড় প্রতিবেদনের পথে এগিয়ে গেছেন। এখানে থাকছে সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
সাহস
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আপনাকে অনেক অন্ধকার পথে নিয়ে যাবে। আপনি এমন সব গোপন বিষয় সামনে আনবেন যা অনেকেই চায় না। আপনি হয়তো কর্তৃপক্ষের চাপের শিকার হবেন। আপনার বস সেন্সরশিপ আরোপ করতে পারে, এমনকি কিছু সময় মৃত্যুর হুমকিও পেতে পারেন। এগুলোর মধ্যে টিকে থাকতে গেলে অনেক সাহস দরকার।
কৌতুহল
প্রতিদিনকার জীবনযাত্রায় সাংবাদিকতার মৌলিক পাঁচ ‘ডব্লিউ’ এবং এক ‘এইচ’ প্রশ্ন জিজ্ঞাস করার সক্ষমতা থেকেই শুরু হয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা। এই প্রশ্ন থাকতে পারে কোনো ঘটনায়, সংবাদে কিংবা দৈনন্দিন জীবনে যা শুনছেন বা দেখছেন, তার ভেতরেই।
আবেগ
সাংবাদিকতা করে আপনি হয়তো ধনী হতে পারবেন না। এবং এটি আপনার অনেক সময় ও শক্তি খরচ করবে। অনুসন্ধানী সাংবাদিক হওয়ার মানে আপনি হয়তো ক্ষমতাবান মানুষদের সঙ্গে টক্কর দিচ্ছেন। এবং কিছু ক্ষেত্রে আপনার জীবনকেও ঝুঁকিতে ফেলে দিচ্ছেন। আপনি এই কাজটি করছেন, কারণ আপনার লক্ষ্য আরো বড়। সেটি হতে পারে সত্য উন্মোচন, ন্যায়বিচার বা হয়তো কোনো কণ্ঠহীনের কথা তুলে আনা।
উদ্যোগ
অনেক বার্তাকক্ষই চলে সীমিত সম্পদ নিয়ে এবং তাদেরকে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হয়। তাই কোনো সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া অনুসন্ধানী আইডিয়াকে সব সময় রাতারাতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না, বিশেষ করে যদি সেখানে তথ্যের ঘাটতি বা অস্পষ্টতা থাকে। অনুসন্ধানী সাংবাদিককে উদ্যোগী হতে হয়, করতে হয় নিজস্ব গবেষণা এবং সেই ধারণাকেই একটি রিপোর্টের জন্য পরিকল্পনা আকারে দাঁড় করাতে হয়। প্রতিষ্ঠান তারপরও আগ্রহী না হলে কাজটি সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য পাওয়ার (হতে পারে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল) উৎসগুলো খুঁজতে তাঁকেই উদ্যোগী হতে হয়।
বিচক্ষণতা
বেফাঁস কথা পুরো অনুসন্ধানকাজ এবং এর সঙ্গে যুক্ত সবার জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সুযোগ করে দিতে পারে, যারা প্রতিবেদনটিই বাগিয়ে নিতে পারে কিংবা সম্ভাব্য সাক্ষাৎকারদাতাদের আগেই সতর্ক করে দিতে পারে। মনে রাখবেন: বেফাঁস কথায় জাহাজও ডোবে।
ন্যায্যতা ও নৈতিকতা
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তথ্য-সরবরাহকারী সূত্রের নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্র, এমনকি জীবনের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি কান্ডজ্ঞানহীন অভিযোগ এটি অভিযুক্তকেও একই ধরনের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিকের দৃঢ় ও সুচিন্তিত ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থাকা জরুরি, যাতে তথ্যের উৎস ও প্রতিবেদনের কেন্দ্রে থাকা ব্যাক্তি – উভয়ের মর্যাদাই যতটা সম্ভব রক্ষা করা যায় এবং তারা ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা পায়। পাশাপাশি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে বার্তাকক্ষেরও একটি নৈতিক বিধির মধ্যে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যাতে একই সঙ্গে নীতিগত প্রশ্নে কোনো সংশয় দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকে।
যৌক্তিক চিন্তা, সংগঠন ও শৃঙ্খলাবোধ
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে সময় একটি বড় বিষয়। কখনো কখনো এতে আইনি ঝুঁকি থাকে। তাই সূক্ষ্মভাবে তথ্য যাচাই করা জরুরি। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তাই আপনাকে পরিকল্পনা করতে হবে সতর্কতার সাথে। একই সঙ্গে সত্যতা যাচাই এবং বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে যোগসূত্র প্রতিষ্ঠায়ও মনোযোগী হতে হবে।
বিস্তৃত সাধারণ জ্ঞান ও গবেষণায় দক্ষতা
সংশ্লিষ্ট ঘটনা, তথ্য ও প্রশ্নগুলোকে শনাক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুসন্ধানের প্রাসঙ্গিকতার অনুধাবন পন্ডশ্রম এড়াতে সহায়ক হতে পারে। অনুসন্ধান যদি কোনো অজানা দিকে নিয়ে যায়, তাহলে অনুসন্ধানী সাংবাদিককে অবশ্যই সেই দিকটির ইতিহাস, পরিভাষা, নিয়মাবলী ও মূল ব্যাক্তিদের সম্পর্কে দ্রুততার সঙ্গে পরিচিত হতে হবে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা, সার্চ ইঞ্জিনের ব্যবহার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় বই শনাক্ত ও সংগ্রহ করে তা পড়া- এসবই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পড়ার অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি হয়তো জানেনই না, একটি খুব ছোট তথ্যও আপনার অনুসন্ধানে কতটা কাজে আসতে পারে।
নমনীয়তা
অনুসন্ধান অপ্রত্যাশিত দিকেও মোড় নিতে পারে। কখনো কখনো প্রথম প্রশ্নটি অন্ধ গলিতে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। আবার গৌণ প্রশ্নটিই আরও বেশি কৌতুহলোদ্দীপক, কিন্তু অবশ্যম্ভবী নয় এমন নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কর্তব্য হচ্ছে নিজের গবেষণার বিষয়ে নতুন করে ভাবা ও নতুন পরিকল্পনার জন্য প্রস্তুত থাকা এবং কোনোভাবেই প্রাথমিক ধারণায় বদ্ধমূল না থাকা।
দলীয় স্পৃহা ও যোগাযোগ দক্ষতা
চলচ্চিত্রে অনুসন্ধানী সাংবাদিককে প্রায়শই ‘নিঃসঙ্গ শেরপা’ হিসেবে দেখানো হয়। কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন গোপনীয়তা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং যথাযথ সুরক্ষার নিশ্চয়তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত যা অন্যদের জানানো যায় না। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বার্তাকক্ষের ভেতরের (এমনকি বাইরের) সব দক্ষতার সমন্বয় ও সহযোগিতাতেই সবচেয়ে ভালো রিপোর্টটি তৈরি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ‘স্পটলাইট’ নামের দলটির সাফল্যের কথা, যারা ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের শিশু যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান করেছিল। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরিতে বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে অর্থনীতি ও সমাজবিদ্যার মতো যেকোনো বিষয়ে জ্ঞানের প্রয়োজন হতে পারে। আর জ্ঞানের পরিসর যত বড়ই হোক না কেন একজন সাংবাদিকের পক্ষে এই সব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হওয়া সম্ভব নয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিচিতজন এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ দলবদ্ধ কাজের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। অন্য দিকটি হলো ভালোভাবে বোঝানোর ক্ষমতা, যা অনুসন্ধানী উদ্যোগে অংশ নেওয়া সবাইকে প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ও মানদন্ড (যথার্থতা, সততা, গোপনীয়তা ইত্যাদি) বুঝতে সাহায্য করে।
এই অধ্যায়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সংজ্ঞা ও জনস্বার্থে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকের পক্ষে তার সম্পাদককে অনুসন্ধানমূলক কাজে রাজি করানো সব সময় যে সহজ নয়, সেই বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানের সম্ভাব্য ফল কতোটা আশাপ্রদ হবে, এটি মূলত তার ওপরই নির্ভর করে। পরবর্তী অধ্যায়ে তাই খবরের বিষয় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং ভুয়া তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
|
১১ জানুয়ারী, ২০২৬